Dynamics Career - বাংলাদেশে ক্যারিয়ার, চাকরি ও শিক্ষা বিষয়ক সর্বশেষ তথ্য পরিপাক ও শোষণ প্রশ্ন টাইপ-৪ | ব্লগ
পরিপাক ও শোষণ প্রশ্ন টাইপ-৪
🗂️ Biology 2nd Paper 📅 2025-10-17 🏷️ জীববিজ্ঞান ২য় পত্র , তৃতীয় অধ্যায় 👁️ 45 Total 🔥 2 Today
Blog Image

(xviii) সব ধরনের খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক 'D' চিহ্নিত অংশে সংঘটিত হয়- বিশ্লেষণ কর।

 (xviii) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত D চিহ্নিত অংশটি হলো ক্ষুদ্রান্ত্র। ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রায় সব ধরনের খাদ্যেরই চূড়ান্তরূপে পরিপাক ঘটে। নিচে ক্ষুদ্রান্ত্রে বিভিন্ন খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করা হলো।

ক্ষুদ্রান্ত্র হতে শর্করা, লিপিড ও প্রোটিনজাতীয় পরিপাকের এনজাইম ক্ষরিত হয়। শর্করা পরিপাকের প্রধান এনজাইম হলো অ্যামাইলেজ, মল্টেজ, সুক্রেজ, ল্যাক্টেজ ইত্যাদি। স্টার্চ বা গ্লাইকোজেন অ্যামাইলেজ এনজাইমের প্রভাবে ডাইস্যাকারাইড ও তা পরবর্তীতে অ্যামাইলোলাইটিক এনজাইমের প্রভাবে মনোস্যাকারাইড অর্থাৎ গ্লুকোজে পরিণত হয়। এছাড়াও মল্টোজ, সুক্রোজ, ল্যাক্টোজ যথাক্রমে মল্টেজ, সুক্রেজ ও ল্যাক্টেজ এনজাইমের প্রভাবে বিশ্লিষ্ট হয়ে মনোস্যাকারাইডে রূপান্তরিত হয়। ক্ষুদ্রান্ত্রে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, কার্বোক্সিপেপটাইডেজ, পেপটাইডেজ, কোলাজিনেজ ইত্যাদি এনজাইম বিদ্যমান। এদের প্রভাবে প্রোটিওজ ও পেপটোন পলিপেপটাইডে এবং পরবর্তীতে তা বিশ্লিষ্ট হয়ে শোষণক্ষম অ্যামিনো এসিডে রূপান্তরিত হয়। ক্ষুদ্রান্ত্রের অগ্ন্যাশয় রসে পরিপাককারী এনজাইম লাইপেজ, ফসফোলাইপেজ, কোলেস্টেরল এস্টারেজ বিদ্যমান। এরা চর্বিকে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।

উপরে উল্লিখিত আলোচনার মাধ্যমে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, ক্ষুদ্রান্ত্রে সকল ধরনের খাদ্য পরিপাককারী এনজাইম উপস্থিত। ফলে সব ধরনের খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক ক্ষুদ্রান্ত্রে সংঘটিত হয়।

 

(xix) উদ্দীপকের 'A' অংশটি খাদ্য পরিপাক করে কিন্তু নিজে পরিপাক হয় না- বিশ্লেষণ কর।

(xix) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অংশটি হলো পাকস্থলি। চিবানো ও লালা মিশ্রিত আমিষ খাদ্য পাকস্থলীর গহ্বরে পৌঁছালে পাকস্থলীর প্রাচীর হতে গ্যাস্ট্রিন (gastrin) নামক হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে পাকস্থলীর প্রাচীর বিদ্যমান গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি হতে গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়। এ রসে পেপসিনোজেন ও প্রোরেনিন নামক নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক এনজাইম থাকে। এ দুটি নিষ্ক্রিয় এনজাইম গ্যাস্ট্রিক রসের HCI-এর সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে পেপসিন ও রেনিন নামক সক্রিয় এনজাইমে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে। রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে।

 পাকস্থলী নিজে প্রোটিন দিয়ে তৈরি হলেও' এসব এনজাইমের প্রভাবে পাকস্থলি নিজে পরিপাক হয়ে যায় না। এর কারণ হল গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে এনজাইম গুলো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ক্ষরিত হয়। তা ছাড়া পাকস্থলির অন্তপ্রাচীরের কোষ গুলো মিউকাসের গাঢ় আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে। ফলে সক্রিয় এনজাইম পাকস্থলির মিউকোসা স্তরের কোষের সরাসরি সংস্পর্শে আসে না। আবার পাকস্থলির কোষে প্রোস্টাগ্লান্ডিন নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ আছে যা এসিডকে প্রশমিত করার সাথে সম্পর্কিত। এসব কারণে পাকস্থলি নিজে প্রোটিন হওয়া সত্ত্বেও পরিপাক হয়ে যায় না বরং প্রোটিন খাদ্য পরিপাকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। কাজেই বলা যায় উদ্দীপকের উক্তিটি যথার্থ।

 

(XX) উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়ায় হরমোনের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

(xx) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়ায় এনজাইম আবশ্যক।

এসব এনজাইম নিঃসরণ কয়েকটি নির্দিষ্ট হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। নিম্নে পরিপাকে হরমোনের ভূমিকা উল্লেখ করা হলো:

গ্যাস্ট্রিন: পাকস্থলির পাইলোরিক প্রান্তের গ্রন্থিগুলোর গাত্রের জি-কোষ থেকে গ্যাস্ট্রিন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে পাকস্থলির প্রাচীরে অবস্থিত গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে গ্যাস্ট্রিক জুস নিঃসৃত হয়। এটি HCI এর ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

সিক্রেটিন: অস্ত্রের (ডিওডেনামের) মিউকোসা থেকে এ হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস নিঃসৃত হয়। তাছাড়া এটি পাকস্থলির প্রাচীরকে পেপসিন এনজাইম এবং যকৃতকে পিত্ত ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।

কোলেসিস্টোকাইনিন: এর অপর নাম প্যানক্রিওজাইমিন। ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীর থেকে ক্ষরিত হরমোনটি অগ্ন্যাশয়ের বৃদ্ধি ও বিকাশ এবং অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরণকে উদ্দীপিত করে। এছাড়া এটি পিত্তথলি থেকে পিত্ত বের হতে উদ্দীপনা যোগায়।

সোমাটোস্ট্যাটিন: এই হরমোনটি পাকস্থলি ও অস্ত্রের মিউকোসাতে অবস্থিত ডি-কোষ থেকে ক্ষরিত হয়। এটি গ্যাস্ট্রিনের ক্ষরণ নিবারণ করে ফলে পাকস্থলি রসের ক্ষরণ হ্রাস পায়। এটি অগ্ন্যাশয় রসের ক্ষরণও হ্রাস করে।

এন্টেরোকাইনিন: ইলিয়ামের প্রাচীর থেকে এ হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে ইলিয়ামের প্রাচীরে বিদ্যমান আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে মল্টেজ, সুক্রেজ, ইনভারটেজ ও ল্যাক্টেজ এনজাইম নিঃসৃত হয়।

পেপটাইড YY: ইলিয়ামের প্রাচীর থেকে এ হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে অস্ত্রের ভেতরে দিয়ে ধীর গতিতে খাদ্য প্রবাহিত হয় যাতে দক্ষতার সাথে খাদ্যের পরিপাক ও শোষণ সম্পন্ন হয়।

এন্টারোগ্যাস্ট্রোন: এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীর (ডিওডেনাম) থেকে নিঃসৃত হয়। এ হরমোন পাকস্থলির বিচলন ও গ্যাস্ট্রিক জুস নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করে। গ্যাস্ট্রিক সংকোচন হ্রাস করার জন্য একে গ্যাস্ট্রিক ইনহিবিটরি পেপটাইড বলা হয়।

এন্টারোক্রাইনিন: এটি ক্ষুদ্রান্তের প্রাচীর (ডিওডেনাম) থেকে ক্ষরিত হয়। এটি লিবারকুন 'গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে আন্ত্রিক রসে এনজাইম ও মিউকাস ক্ষরণ করে।

ডিওক্রাইনিন: এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীর (ডিওডেনাম) থেকে ক্ষরিত হয়। এ হরমোন ক্রনারের গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে আন্ত্রিক রসে এনজাইম ও মিউকাস ক্ষরণ করে।

প্যানক্রিয়েটিক পলিপেপটাইড: এটি আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের প্যানক্রিয়েটিক পলিপেপটাইড কোষ থেকে ক্ষরিত হয় এবং অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরণে বাধা দেয়।

ভিল্লিকাইনিন: ক্ষুদ্রান্তের প্রাচীর থেকে এই হরমোন নিঃসৃত হয় এবং ভিলাই এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।

কাজেই বলা যায় "খাদ্য পরিপাকে শুধুমাত্র এনজাইম নয় এবং হরমোন ও বিশেষ ভূমিকা পালন করে"। 



✍️ মন্তব্য করুন
Exam System