Dynamics Career - বাংলাদেশে ক্যারিয়ার, চাকরি ও শিক্ষা বিষয়ক সর্বশেষ তথ্য পরিপাক ও শোষণ প্রশ্ন টাইপ-১ | ব্লগ
পরিপাক ও শোষণ প্রশ্ন টাইপ-১
🗂️ Biology 2nd Paper 📅 2025-10-17 🏷️ জীববিজ্ঞান ২য় পত্র , তৃতীয় অধ্যায় 👁️ 40 Total 🔥 1 Today
Blog Image


গ-বিভাগ

(i) চিত্রের 'C' এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।    

(ii) উদ্দীপকের 'E' এর মানবদেহে ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।                                                      

(iii) পরিপাকে উদ্দীপকের 'B' অংশের ভূমিকা উল্লেখ কর।                               

(iv) উদ্দীপকের 'A' অংশটিতে খাদ্য পরিপাক পদ্ধতি বর্ণনা কর।                             

(v) 'C' একটি মিশ্র গ্রন্থি- ব্যাখ্যা কর।      

(vi) উদ্দীপকের 'D' অংশে আমিষ জাতীয় খাদ্য পরিপাক বর্ণনা কর।                              

(vii) দেহকে সহেজ রাখতে 'A' এর কার্যক্রম ব্যাখ্যা কর।                                  

(viii) উদ্দীপকের 'B' এর সঞ্চয়ী ভূমিকা বর্ণনা কর।                                          

(ix) উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অংশে নিঃসৃত এনজাইমের কার্যাবলি লিখ।                    

(x) উদ্দীপকের 'A' অঙ্গটি থেকে যে এসিড নিঃসৃত হয় উহার কাজ বর্ণনা কর।             

(xi) উদ্দীপকের 'B' অংশের পরিপাকে ভূমিকা উল্লেখ কর।                                     

ঘ বিভাগ

(xii) শর্করা সঞ্চয়ে 'B' ও 'C' এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।                           

(xiii) উদ্দীপকের 'A' অংশটিতে আমিষ ও লিপিড জাতীয় খাদ্যের পরিপাক হলেও শর্করা পরিপাক পরিলক্ষিত হয় না- বিশ্লেষণ কর।   (xiv) উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' অংশটি সঞ্চয়ী ভূমিকার পাশাপাশি বিপাকীয় ভূমিকাও অনস্বীকার্য- বিশ্লেষণ কর।

(xv) 'C' নিঃসৃত এনজাইম সব ধরনের খাবার পরিপাকে সহায়ক- বিশ্লেষণ কর।

(xvi) উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অঙ্গের কার্যকারিতা স্নায়ুতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল- বিশ্লেষণ কর।

(xvii) উদ্দীপকের 'B' অঙ্গটিকে জৈব রসায়নাগার বলা হয়- বিশ্লেষণ কর।

(xviii) সব ধরনের খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক 'D' চিহ্নিত অংশে সংঘটিত হয়- বিশ্লেষণ কর।

(xix) উদ্দীপকের 'A' অংশটি খাদ্য পরিপাক করে কিন্তু নিজে পরিপাক হয় না- বিশ্লেষণ কর।

(XX) উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়ায় হরমোনের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

 

উত্তর

(i) চিত্রের 'C' এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।    

(i) উত্তরঃ উদ্দীপকের 'C' চিহ্নিত অংশ হলো অগ্নাশয়। নিম্নে অগ্ন্যাশয়ের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-

অগ্ন্যাশয় পাকস্থলির নিচে অবস্থিত এবং উদর গহ্বরের ডিওডেনামের অর্ধবৃত্তাকার কুণ্ডলীর ফাঁক থেকে প্লীহা পর্যন্ত বিস্তৃত। অগ্ন্যাশয় একই সাথে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা উভয় প্রকার গ্রন্থির সমন্বয়ে গঠিত। অগ্ন্যাশয়ে অসংখ্য লোবিউল বা অ্যাসিনাস থাকে। অগ্ন্যাশয়ের গ্রন্থিগুলো থেকে ছোট ছোট নালিকা বেরিয়ে একত্রিত হয় এবং উইসাং নালি গঠন করে। অগ্ন্যাশয় রস থেকে নিঃসৃত এনজাইম অ্যামাইলেজ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য, লাইপেজ লিপিড বা ফ্যাট জাতীয় খাদ্য এবং প্রোটিয়েজ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য পরিপাক করে। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন, গ্লুকাগন, সোমাটোস্ট্যাটিন, পলিপেপটাইড ক্ষরণ করে। অগ্ন্যাশয় একই সাথে পরিপাককারী এনজাইম এবং হরমোন নিঃসরণ করে। এজন্য অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়।

 

(ii) উদ্দীপকের 'E' এর মানবদেহে ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

(ii) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'E' চিহ্নিত অংশ হলো বৃহদন্ত্র। মানবদেহে বৃহদন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো-

বৃহদন্ত্রের কোলন অংশ পাকমণ্ড হতে অবশিষ্ট পানি ও আয়নসমূহ শোষণ করে প্রায় কঠিন মল তৈরি করে এবং মল নিষ্কাশিত না হওয়া পর্যন্ত তা সঞ্চয় বা ধারণ করে। এটি বৃহদন্ত্রের প্রধান কাজ। এখানে কোনো পরিপাক সম্পন্ন হয় না। বৃহদন্ত্র বিভিন্ন প্রকার কাজ করে থাকে। নিচে মানুষের বৃহদন্ত্রের প্রধান ভূমিকাগুলো উল্লেখ করা হলো:

খাদ্যের অসার অংশ সঞ্চয়: খাদ্যের অপাচ্য অংশ সাময়িকভাবে বৃহদন্ত্রে সঞ্চিত থাকে। ইলিয়াম থেকে অপরিপাককৃত খাদ্যবস্তু পানিসহ সিকামের মাধ্যমে কোলনে আসে। অপাচ্য খাদ্যবস্তু এখানে ৩৬ ঘণ্টা থাকে।

ক্ষরণ: বৃহদন্ত্রের মিউকোসা স্তরে গবলেট কোষ মিউকাস ক্ষরণ করে এবং বৃহদন্ত্রের অভ্যন্তরকে পিচ্ছিল রাখে।

শোষণ: খাদ্যের অপাচ্য অংশের প্রায় শতকরা ৭০-৮০ ভাগ পানি বৃহদন্ত্রের কোলন দ্বারা পুনঃশোষিত হয়। এছাড়া গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড, অজৈব লবণ, ফলিক এসিড, ভিটামিন-K এবং ভিটামিন-B এখানে শোষিত হয়।

ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়া: বৃহদন্ত্রে অনেক মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া (প্রায় ৫০০ প্রজাতি) থাকে। এরা খাদ্যের অপাচ্য অংশের গাঁজন ও পাচন ঘটায়। ক্ষুদ্র শিকল ফ্যাটি এসিড ব্যাকটেরিয়া এবং কোলনের প্রাচীরের কোষে শক্তি জোগায়। বৃহদন্ত্রে অবস্থিত ব্যাকটেরিয়া ফলিক এসিড, ভিটামিন-K এবং ভিটামিন-B12 উৎপন্ন করে।

মল উৎপাদন: বৃহদন্ত্রে পানি, গুকোজ, অ্যামিনো এসিড, লবণ ইত্যাদি শোষণের পর ৩৫০ গ্রাম তরুল মণ্ড থেকে ১৩৫ গ্রাম আর্দ্র মল উৎপন্ন হয়।

সঞ্চালনমূলক কাজ: বৃহদন্ত্রের ক্রমসংকোচনের ফলে কোলন, পেলিবিক কোলন ও মলাশয় হতে অর্ধকঠিন মল পায়ু পথে দেহের বাইরে নির্গত হয়।

(iii) পরিপাকে উদ্দীপকের 'B' অংশের ভূমিকা উল্লেখ কর।

(iii) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' অংশটি হলো যকৃত। নিম্নে পরিপাকে যকৃতের ভূমিকা উল্লেখ করা হলো-

কার্বোহাইড্রেটের বিপাক: কার্বোহাইড্রেটের বিপাকে যকৃত বিশেষভাবে অংশগ্রহণ করে। যকৃত গুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ থেকে কার্বোহাইড্রেট, ল্যাকটিক এসিড, পাইরুভিক এসিড এবং গ্লিসারল থেকে কার্বোহাইড্রেট, কার্বোহাইড্রেট থেকে স্নেহপদার্থ ইত্যাদির সংশ্লেষণ ঘটায়, এমনকি রক্ত শর্করার সাম্যাবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রোটিনের বিপাক: প্লাজমাপ্রোটিন, ইউরিয়া প্রভৃতির সংশ্লেষণ, ডিঅ্যামাইনেশন, ট্রান্স-অ্যামাইনেশন প্রভৃতি যকৃতে সম্পন্ন হয়। প্লাজমাপ্রোটিন- অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রোম্বিন প্রভৃতি যকৃতে তৈরি হয়।

স্নেহদ্রব্যের বিপাক: ফ্যাটি অ্যাসিডের জারণ, কিটোন পদার্থ উৎপাদন, ফসফোলিপিডের সংশ্লেষণ, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন থেকে স্নেহদ্রব্যের উৎপাদন প্রভৃতি যকৃতেই সম্পন্ন হয়।

গ্লাইকোজেন সঞ্চয়: রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি হলে হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে গুকোজ যকৃতে এসে গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত হয় এবং তা যকৃতে জমা থাকে।

যকৃতে এরূপ প্রায় 500 ধরণের গুরুত্বপূর্ণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয় যা পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

(iv) উদ্দীপকের 'A' অংশটিতে খাদ্য পরিপাক পদ্ধতি বর্ণনা কর।         

(iv) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'A' অংশটি হলো পাকস্থলি। নিম্নে পাকস্থলিতে খাদ্য পরিপাক পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-

যান্ত্রিক পরিপাক:

মুখ থেকে চর্বিত খাদ্য অন্ননালিপথে পাকস্থলিতে এসে ২-৬ ঘণ্টাকাল অবস্থান করে। এসময় প্যারাইটাল কোষ থেকে HCI ক্ষরিত হয়ে খাদ্যবাহিত অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়। পেশিন্তর বিভিন্ন দিকমুখি হওয়ায় পাকস্থলি প্রাচীর নানাদিকে সঞ্চালিত হয়ে (মোচড় দিয়ে, সঙ্কুচিত হয়ে কিংবা চাপা হয়ে) মুখগহ্বর থেকে আসা অর্ধচূর্ণ খাদ্যকে পিষে পেস্ট-এ পরিণত করে। এসময় গ্যাস্ট্রিক জুস ক্ষরিত হয়ে পাকস্থলির যান্ত্রিক চাপে পিষ্ট খাদ্যের সঙ্গে মিশে ঘন স্যুপের মতো মিশ্রণে পরিণত হয়। খাদ্যের এ অবস্থা কাইম বা মন্ড নামে পরিচিত।

আমিষ পরিপাক:

                         পেপসিন

i.  আমিষ + পানি ------ প্রোটিওজ + পেপটোন

                                                রেনিন

ii. কেসিন (দুগ্ধ আমিষ)+ পানি ------ প্যারাকেসিন

                         পেপসিন

iii. প্যারাকেসিন ------- পেপটোন

                    জিলেটিনেজ

iv. জিলেটিন -------- পেপটোন ও পলিপেপটাইড

স্নেহ পরিপাক: অম্লীয় মাধ্যমে স্নেহ বিশ্লেষকারী এনজাইম কাজ করতে পারে না কিন্তু পাকস্থলিতে গ্যাস্ট্রিক লাইপেজ নামক খুব দুর্বল স্নেহ বিশ্লেষকারী এনজাইম থাকে। লাইপোলাইটিক (স্নেহ বিশ্লেষণকারী) এনজাইমের মধ্যে এরা ব্যতিক্রম এ অর্থে যে, এগুলো একমাত্র অম্লীয় মাধ্যমে কাজ করতে সক্ষম। এ এনজাইম কেবল মাখনের চর্বির উপর কাজ করে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্ধপাচিত এ খাদ্য ধীরে ধীরে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করে। পাকস্থলির পাইলোরিক প্রান্তে অবস্থিত স্ফিংক্টার (sphincter = পেশির বেড়ী যা ছিদ্রপথকে বেষ্টন করে থাকে) পাকস্থলি থেকে ডিওডেনামে খাদ্যের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।

শর্করা পরিপাক: পাকস্থলি থেকে শর্করাবিশ্লেষী কোন এনজাইম নিঃসৃত হয় না। ফলে শর্করা জাতীয় খাদ্যের কোন পরিবর্তন ঘটে না। সুতরাং উপরোক্ত বিশ্লেষণ থেকে বলা যায় পাকস্থলি বা উদ্দীপকের A অংশটিতে আমিষ ও লিপিড জাতীয় খাদ্যের পরিপাক হলেও শর্করা পরিপাক হয় না।

(v) 'C' একটি মিশ্র গ্রন্থি- ব্যাখ্যা কর।

(v) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত 'C' হলো অগ্ন্যাশয়। অগ্ন্যাশয় পাকস্থলির নিচে অবস্থিত এবং উদর গহ্বরের ডিওডেনামের অর্ধবৃত্তাকার কুণ্ডলীর ফাঁক থেকে প্লীহা পর্যন্ত বিস্তৃত। অগ্ন্যাশয় একই সাথে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা উভয় প্রকার গ্রন্থির সমন্বয়ে গঠিত। অগ্ন্যাশয়ে অসংখ্য লোবিউল বা অ্যাসিনাস থাকে। অগ্ন্যাশয়ের গ্রন্থিগুলো থেকে ছোট ছোট নালিকা বেরিয়ে একত্রিত হয় এবং উইসাং নালি গঠন করে। অগ্ন্যাশয় রস থেকে নিঃসৃত এনজাইম অ্যামাইলেজ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য, লাইপেজ লিপিড বা ফ্যাট জাতীয় খাদ্য এবং প্রোটিয়েজ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য পরিপাক করে। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন, গ্লুকাগন, সোমাটোস্ট্যাটিন, পলিপেপটাইড ক্ষরণ করে। অগ্ন্যাশয় একই সাথে পরিপাককারী এনজাইম এবং হরমোন নিঃসরণ করে। এজন্য অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়।

(vi) উদ্দীপকের 'D' অংশে আমিষ জাতীয় খাদ্য পরিপাক বর্ণনা কর।

(vi) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত 'D' অংশটি হলো ক্ষুদ্রান্ত্র। প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক ক্ষুদ্রান্ত্রের আমিষ পরিপাককারী এনজাইম ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, ট্রাইপেপডাইডেজ, ডাই-পেপটাইডেজ ইত্যাদি বিদ্যমান থাকে।

১. ট্রিপসিন এনজাইম নিষ্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেনরূপে ক্ষরিত হয়। ডিওডেনামের মিউকোসা নিঃসৃত এন্টেরোকাইনেজ এনজাইমের সহায়তায় এটি সক্রিয় ট্রিপসিনে পরিণত হয়। ট্রিপসিন প্রোটিওজ ও পেপটোন জাতীয় আমিষকে ভেঙ্গে পলিপেপটাইডে পরিণত করে।

                               ট্রিপসিন

প্রোটিওজ ও পেপটোন-------® পলিপেপটাইড

২. কাইমোট্রিপসিন নিষ্ক্রিয় কাইমোট্রিপসিনোজেনরূপে ক্ষরিত হয়। পরে ট্রিপসিনের ক্রিয়ায় এটি সক্রিয় কাইমোট্রিপসিনে পরিণত হয়। এটি প্রোটিওজ ও পেপটোনকে ভেঙ্গে পলিপেপটাইডে পরিণত করে।

                             কাইমোট্রিপসিন

প্রোটিওজ ও পেপটোন ------------ পলিপেপটাইড +অ্যামিনো এসিড

৩. কার্বোক্সিপেপটাইডেজ এনজাইম লিঙ্কেজকে সরল পেপটাইড (ডাইপেপটাইড) ও অ্যামিনো এসিডে রূপান্তরিত করে।

                        কার্বোক্সিপেপটাইডেজ

পলিপেপটাইড------------------- ডাইপেপটাইড + অ্যামিনো এসিড।

                  অ্যামিনোপেপটাইডেজ

৪. পলিপেপটাইড ----------- অ্যামিনো এসিড।

                       ট্রাইপেপটাইডেজ

৫. ট্রাইপেপটাইড ----------- অ্যামিনো এসিড।

                        ডাইপেপটাইডেজ

৬. ডাইপেপটাইড----------- অ্যামিনো এসিড।

 

(vii) দেহকে সহেজ রাখতে 'A' এর কার্যক্রম ব্যাখ্যা কর।     

(vii) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অঙ্গটি হলো পাকস্থলি। পরিপাক ক্রিয়া সম্পাদনের মাধ্যমে পাকস্থলি দেহকে সতেজ রাখে।

অন্ননালি ও ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্যবর্তী স্থানে পাকস্থলির অবস্থান। এর আকৃতি থলের মতো। এর প্রাচীর বেশ পুরু ও পেশিবহুল, গলবিল ও অন্ননালির ক্রমসংকোচনের ফলে পিচ্ছিল খাদ্যবস্তু এখানে এসে জমা হয়। পাকস্থলি নিম্নরূপ কাজগুলো করে থাকে-

a.  পাকস্থলিতে সাময়িকভাবে খাদ্যবস্তু জমা থাকে।

b.  গ্যাস্ট্রিক জুসে বিদ্যমান HCI পাকস্থলিতে অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে, ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং নিষ্ক্রিয় এনজাইমকে সক্রিয় করে।

c.  গ্যাস্ট্রিক জুসে বিদ্যমান পেপসিন এনজাইম HCI-এর সাথে মিশে প্রোটিনকে পেপটোনে পরিণত করে।

d.  গ্যাস্ট্রিক জুসে বিদ্যমান রেনিন এনজাইম দুধের ক্যাসিনোজেনকে ক্যাসিনে পরিণত করে।

e.  গ্যাস্ট্রিক জুস পাকস্থলির প্রাচীর সুরক্ষা করে এবং গ্যাস্ট্রিক আলসার প্রতিরোধ করে।

f.  কিছু বিষাক্ত বস্তু, ভারী ধাতু, অ্যালকালয়েড বস্তু ইত্যাদি গ্যাস্ট্রিক জুসের সাথে দেহ থেকে বহিষ্কৃত হয়।

g.  বাফার হিসেবে কাজ করে।

(viii) উদ্দীপকের 'B' এর সঞ্চয়ী ভূমিকা বর্ণনা কর।

(viii) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' হলো যকৃত। নিম্নে যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকা উল্লেখ করা হলো:

গ্লাইকোজেন সঞ্চয়: ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে গ্লুকোজ যকৃতে প্রবেশ করে। রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন-এ রূপান্তরিত হয়ে যকৃতের সঞ্চয়ী কোষে জমা থাকে। ইনসুলিন নামক হরমোন এ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। প্রয়োজনে এ গ্লাইকোজেন ভেঙ্গে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখে।

রক্ত সঞ্চয়: প্লীহা ও অন্ত্র থেকে বেরিয়ে রক্ত বাহিকাগুলো মিলিত হয়ে হেপাটিক পোর্টাল শিরা গঠন করে। যকৃতের ভেতর দিয়ে রক্ত যদিও অনবরত প্রবাহিত হয় তারপরও এর রক্তবাহিকাগুলোসহ এ শিরা বিপুল পরিমাণ রক্তের ভান্ডার হিসেবে কাজ করে। যকৃত প্রায় ১৫০০ ঘন সে.মি. পর্যন্ত রক্ত সঞ্চয় করে রাখতে পারে যা দেহের বিভিন্ন রক্তক্ষরণ-জনিত ঘটনায় মূল রক্তসংবহনের সাথে মিলিত হয়ে রক্তচাপের সমন্বয় ঘটায়।

ভিটামিন সঞ্চয়: যকৃত স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনসমূহ (A. D. E, K), পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (B ও C). সায়ানোকোবালামিন (B12) এবং ফলিক এসিড সঞ্চয় করে। B12 এবং ফলিক এসিড অস্থিমজ্জায় লোহিত কণিকা তৈরিতে প্রয়োজন হয়।

খনিজদ্রব্য সঞ্চয়: সুস্থ দেহের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ, যেমন- কপার, জিংক, কোবাল্ট, মলিবডেনাম প্রভৃতিসহ আয়রন ও পটাশিয়াম যকৃতে সঞ্চিত থাকে।

পিত্তরস: যকৃত কর্তৃক উৎপন্ন পিত্তরস যকৃতের ডান খণ্ডাংশের নিচে অবস্থিত পিত্তথলিতে সঞ্চিত থাকে।

✍️ মন্তব্য করুন
Exam System