Dynamics Career - বাংলাদেশে ক্যারিয়ার, চাকরি ও শিক্ষা বিষয়ক সর্বশেষ তথ্য পরিপাক ও শোষণ প্রশ্ন টাইপ-২ | ব্লগ
পরিপাক ও শোষণ প্রশ্ন টাইপ-২
🗂️ Biology 2nd Paper 📅 2025-10-17 🏷️ জীববিজ্ঞান ২য় পত্র , তৃতীয় অধ্যায় 👁️ 39 Total 🔥 1 Today
Blog Image

(ix) উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অংশে নিঃসৃত এনজাইমের কার্যাবলি লিখ।

(ix) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অংশটি হলো পাকস্থলি। নিম্নে পাকস্থলিতে নিঃসৃত এনজাইমসমূহের কার্যাবলি উল্লেখ করা হলো:

পাকস্থলী থেকে শর্করাবিশ্লেষী কোন এনজাইম নিঃসৃত হয় না। ফলে এর আর কোন পরিবর্তন ঘটে না। গ্যাস্ট্রিক জুসে পেপসিনোজেন ও প্রোরেনিন নামক নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক (আমিষ বিশ্লেষী) এনজাইম থাকে। এ দুটি নিষ্ক্রিয় এনজাইম গ্যাস্ট্রিক জুসের HCI-এর সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে পেপসিন ও রেনিন নামক সক্রিয় এনজাইমে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষের আর্দ্র বিশ্লেষণ ঘটিয়ে প্রোটিওজ ও পেপটোন-এ পরিণত করে। রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে।

                        পেপসিন

১. আমিষ + পানি ------ প্রোটিওজ পেপটোন

                                                রেনিন

২. কেসিন (দুগ্ধ আমিষ) + পানি --প্যারাকেসিন

                       পেপসিন

৩. প্যারাকেসিন --- পেপটোন।

              জিলেটিনেজ

৪. জিলেটিন------ পেপটোন ও পলিপেপটাইড

অম্লীয় মাধ্যমে স্নেহ বিশ্লেষকারী এনজাইম কাজ করতে পারে না কিন্তু পাকস্থলিতে গ্যাস্ট্রিক। লাইপেজ নামক খুব দুর্বল স্নেহ বিশ্লেষকারী এনজাইম থাকে। লাইপোলাইটিকে (স্নেহ বিশ্লেষকারী) এনজাইমের মধ্যে এরা ব্যতিক্রম এ অর্থে যে, এগুলো একমাত্র অম্লীয় মাধ্যমে কাজ করতে সক্ষম। এ এনজাইম কেবল মাখনের চর্বির উপর কাজ করে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

(x) উদ্দীপকের 'A' অঙ্গটি থেকে যে এসিড নিঃসৃত হয় উহার কাজ বর্ণনা কর।

(x) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অঙ্গটি হলো পাকস্থলি। পাকস্থলি থেকে নিঃসৃত এসিডটি হলো HCI বা হাইড্রোক্লোরিক এসিড। পাকস্থলির গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থির প্যারাইটাল বা অক্সিনটিক কোষ HCI নিঃসরণ করে।

a. পাকস্থলিতে অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।

b. ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

c. নিষ্ক্রিয় এনজাইম পেপসিনোজেন ও প্রোরেনিনকে সক্রিয় করে যথাক্রমে পেপসিন ও রেদিনে পরিণত করে। গ্যাস্ট্রিক জুসে বিদ্যমান পেপসিন এনজাইম HCI-এর সাথে মিশে প্রোটিনকে পেপটোনে পরিণত করে। গ্যাস্ট্রিক জুসে বিদ্যমান রেনিন এনজাইম দুধের ক্যাসিনোজেনকে ক্যাসিনে পরিণত করে। এভাবে প্রোটিন পরিপাকেও ভূমিকা রাখে।

d. টায়ালিনের কাজ স্থগিত করে শর্করা পরিপাক বন্ধ করে।

e. বাফার হিসেবে কাজ করে।

(xi) উদ্দীপকের 'B' অংশের পরিপাকে ভূমিকা উল্লেখ কর।

(xi) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'B' অংশটি হলো যকৃত। যকৃত দেহের সবচেয়ে বড় এছি। লালচে খয়েরি রঙের ত্রিকোণাকার এ গ্রন্থিটি ডায়াফ্রামের ঠিক নিচে উদরের অনেকখানি অংশজুড়ে আড়াআড়িভাবে ও কিছুটা ডান দিক ঘেঁষে অবস্থান করে। চারটি অসম্পূর্ণ খন্ড নিয়ে গঠিত যকৃতের ডান খন্ডটি সবচেয়ে বড়। প্রত্যেক খন্ড বহুভূজাকার কোষে গঠিত। অনেকগুলো কোষ মিলে একেকটি অণুখন্ড নির্মিত হয়। প্রত্যেকটি অণুখন্ডের কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় শিরা থাকে। যকৃত কোষগুলোর গা বেয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সাইনুসয়েড ও পিত্তনালিকা প্রসারিত হয়। পিত্তনালিকাগুলো পিত্তথলিতে গিয়ে সমাপ্ত হয়। যকৃত কোষ পিত্তরস ক্ষরণ করে এবং পিত্তথলিতে জমা রাখে। পিত্তরস একটি হলুদাভ তিক্ত স্বাদধারী ক্ষারীয় তরল পদার্থ। এটি অগ্রে ক্ষারীয় মাধ্যম সৃষ্টি করে যা আন্ত্রিক রস ও অগ্ন্যাশয় রসের পরিপাক ক্রিয়ার জন্য অত্যাবশ্যক। তা ছাড়া পিত্তরসে বিদ্যমান পিত্তলবণ ফ্যাট জাতীয় খাদ্যকে ইমালসিফিকেশনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে। এভাবে খাদ্য পরিপাকে উদ্দীপকের B চিহ্নিত অংশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

(xii) শর্করা সঞ্চয়ে 'B' ও 'C' এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।                    

(xii) উত্তরঃ  উদ্দীপকের চিত্রের 'B' ও 'C' অঙ্গগুলো হলো যকৃত এবং অগ্ন্যাশয়। শর্করা সঞ্চয়ে উভয়ই বিশেষ ভূমিকা পালন করে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

শর্করা সঞ্চয়ে যকৃত: শর্করা বিপাকে যকৃতের ভূমিকাই মুখ্য।

গ্লাইকোজেনেসিস: অস্ত্র থেকে হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে চিনি (যেমন-গুকোজ) যকৃতে প্রবেশ করে। এ শিরাটি বিভিন্ন মাত্রায় চিনি বহনকারী একমাত্র রক্তবাহিকা। শর্করা বিপাকে যকৃতই দেহে গ্লুকোজ লেভেল প্রতি ১০০ ঘন সেন্টিমিটারে ৯০ মিলিগ্রাম গুকোজ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করে। যে ধরনের খাবারই গ্রহণ করা হোক না কেন রক্তে গ্লুকোজ লেভেল যেন না বাড়ে বা কমে, যকৃত তা প্রতিরোধ করে। গ্যালাক্টোজ, ফ্রুক্টোজসহ সমস্ত হেক্সোজ চিনিকে যকৃত গুকোজে পরিবর্তিত করে গ্লাইকোজেন নামক অদ্রবণীয় পলিস্যাকারাইড হিসেবে জমা রাখে। গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন রূপান্তর প্রক্রিয়াটিকে গ্রাইকোজেনেসিস বলে। প্রক্রিয়াটি ইনসুলিনের উপস্থিতিতে উদ্দীপ্ত হয়। ইনসুলিন হচ্ছে রক্তে চিনির লেভেল বেড়ে গেলে তার প্রতি সাড়া হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে উৎপন্ন হরমোন।

গ্লুকোনিয়োজেনেসিস: যে জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অশর্করা জাতীয় বস্তু থেকে গ্লুকোজ শর্করা উৎপন্ন হয়, তাকে গ্লকোনিয়োজেনেসিস বলে। এটি শর্করার উপচিতিমূলক বিপাক। এটি প্রধানত যকৃত কোষের সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়। দেহের চাহিদার প্রেক্ষিতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অত্যধিক কমে গেলে যকৃত অ্যামিনো এসিড, ল্যাকটিক এসিড, পাইরুভিক এসিড, গ্লিসারল ইত্যাদি অশর্করা জাতীয় বস্তু থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে রক্তে প্রেরণ করে, ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ে। এ প্রক্রিয়াটি গ্লুকাগন হরমোন দ্বারা উদ্দীপ্ত হয়। এভাবে যকৃত রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা ৯০ মিলিগ্রাম/১০০ ঘন সেন্টিমিটার বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

শর্করা সঞ্চয়ে অগ্ন্যাশয়:

অগ্ন্যাশয়ের আলফা ও বিটা কোষ যথাক্রমে গ্লুকাগন ও ইনসুলিন হরমোন ক্ষরণ করে। এ দুটি হরমোন যথাক্রমে গ্লুকোজ এর পরিমাণ দেহে বৃদ্ধি ও কমাতে সক্ষম। অ্যামাইলেজ ও মল্টেজ এনজাইম সম্মিলিতভাবে মল্টোজ জাতীয় গ্লুকোজে পরিণত করতে পারে। যা পরবর্তীতে যকৃতে সঞ্চিত হতে পারে।

এভাবেই যকৃত ও অগ্ন্যাশয় শর্করা সঞ্চয়ে ভূমিকা রাখে।

(xiii) উদ্দীপকের 'A' অংশটিতে আমিষ ও লিপিড জাতীয় খাদ্যের পরিপাক হলেও শর্করা পরিপাক পরিলক্ষিত হয় না- বিশ্লেষণ কর।  

(xiii) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'A' হলো পাকস্থলি। পাকস্থলিতে আমিষ ও লিপিড জাতীয় খাদ্যের পরিপাক হলেও শর্করা পরিপাক হয় না। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

আমিষ পরিপাক: গ্যাস্ট্রিক জুসে পেপসিনোজেন ও প্রোরেনিন নামক নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক (আমিষ বিশ্লেষী) এনজাইম থাকে। এ দুটি নিষ্ক্রিয় এনজাইম গ্যাস্ট্রিক জুসের HCI এর সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে পেপসিন ও রেনিন নামক সক্রিয় এনজাইমে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষের আর্দ্র বিশ্লেষণ ঘটিয়ে প্রোটিওজ ও পেপটোন-এ পরিণত করে। রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিন এ পরিণত করে। এছাড়া পাচকরসের জিলেটিনেজ নামক এনজাইম জিলেটিন নামক আমিষকে আংশিক পরিপাক করে পেপটোন ও পলিপেপটাইড উৎপন্ন করে।

স্নেহ পরিপাক: অম্লীয় মাধ্যমে স্নেহ বিশ্লেষকারী এনজাইম কাজ করতে পারে না কিন্তু পাকস্থলিতে গ্যাস্ট্রিক লাইপেজ নামক খুব দুর্বল স্নেহ বিশ্লেষকারী এনজাইম থাকে। লাইপোলাইটিক (স্নেহ বিশ্লেষণকারী) এনজাইমের মধ্যে এরা ব্যতিক্রম এ অর্থে যে, এগুলো একমাত্র অম্লীয় মাধ্যমে কাজ করতে সক্ষম। এ এনজাইম কেবল মাখনের চর্বির (butter fat) উপর কাজ করে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

শর্করা পরিপাক: পাকস্থলি থেকে শর্করাবিশ্লেষী কোন এনজাইম নিঃসৃত হয় না। ফলে শর্করা জাতীয় খাদ্যের কোন পরিবর্তন ঘটে না। সুতরাং উপরোক্ত বিশ্লেষণ থেকে বলা যায় পাকস্থলি বা উদ্দীপকের A অংশটিতে আমিষ ও লিপিড জাতীয় খাদ্যের পরিপাক হলেও শর্করা পরিপাক হয় না।

✍️ মন্তব্য করুন
Exam System