🎓 সকল প্রতিষ্ঠানের পোস্ট
⛔️ শুধুমাত্র লগইনকৃত প্রতিষ্ঠানসমূহ ব্লগ পোস্ট করতে পারে।
Logo
Dynamic Career
📅 2025-10-17 | 🏷️ Biology 2nd Paper
post image
পরিপাক ও শোষণ প্রশ্ন টাইপ-৪

(xviii) সব ধরনের খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক 'D' চিহ্নিত অংশে সংঘটিত হয়- বিশ্লেষণ কর।

 (xviii) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত D চিহ্নিত অংশটি হলো ক্ষুদ্রান্ত্র। ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রায় সব ধরনের খাদ্যেরই চূড়ান্তরূপে পরিপাক ঘটে। নিচে ক্ষুদ্রান্ত্রে বিভিন্ন খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করা হলো।

ক্ষুদ্রান্ত্র হতে শর্করা, লিপিড ও প্রোটিনজাতীয় পরিপাকের এনজাইম ক্ষরিত হয়। শর্করা পরিপাকের প্রধান এনজাইম হলো অ্যামাইলেজ, মল্টেজ, সুক্রেজ, ল্যাক্টেজ ইত্যাদি। স্টার্চ বা গ্লাইকোজেন অ্যামাইলেজ এনজাইমের প্রভাবে ডাইস্যাকারাইড ও তা পরবর্তীতে অ্যামাইলোলাইটিক এনজাইমের প্রভাবে মনোস্যাকারাইড অর্থাৎ গ্লুকোজে পরিণত হয়। এছাড়াও মল্টোজ, সুক্রোজ, ল্যাক্টোজ যথাক্রমে মল্টেজ, সুক্রেজ ও ল্যাক্টেজ এনজাইমের প্রভাবে বিশ্লিষ্ট হয়ে মনোস্যাকারাইডে রূপান্তরিত হয়। ক্ষুদ্রান্ত্রে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, কার্বোক্সিপেপটাইডেজ, পেপটাইডেজ, কোলাজিনেজ ইত্যাদি এনজাইম বিদ্যমান। এদের প্রভাবে প্রোটিওজ ও পেপটোন পলিপেপটাইডে এবং পরবর্তীতে তা বিশ্লিষ্ট হয়ে শোষণক্ষম অ্যামিনো এসিডে রূপান্তরিত হয়। ক্ষুদ্রান্ত্রের অগ্ন্যাশয় রসে পরিপাককারী এনজাইম লাইপেজ, ফসফোলাইপেজ, কোলেস্টেরল এস্টারেজ বিদ্যমান। এরা চর্বিকে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।

উপরে উল্লিখিত আলোচনার মাধ্যমে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, ক্ষুদ্রান্ত্রে সকল ধরনের খাদ্য পরিপাককারী এনজাইম উপস্থিত। ফলে সব ধরনের খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক ক্ষুদ্রান্ত্রে সংঘটিত হয়।

 

(xix) উদ্দীপকের 'A' অংশটি খাদ্য পরিপাক করে কিন্তু নিজে পরিপাক হয় না- বিশ্লেষণ কর।

(xix) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অংশটি হলো পাকস্থলি। চিবানো ও লালা মিশ্রিত আমিষ খাদ্য পাকস্থলীর গহ্বরে পৌঁছালে পাকস্থলীর প্রাচীর হতে গ্যাস্ট্রিন (gastrin) নামক হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে পাকস্থলীর প্রাচীর বিদ্যমান গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি হতে গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়। এ রসে পেপসিনোজেন ও প্রোরেনিন নামক নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক এনজাইম থাকে। এ দুটি নিষ্ক্রিয় এনজাইম গ্যাস্ট্রিক রসের HCI-এর সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে পেপসিন ও রেনিন নামক সক্রিয় এনজাইমে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে। রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে।

 পাকস্থলী নিজে প্রোটিন দিয়ে তৈরি হলেও' এসব এনজাইমের প্রভাবে পাকস্থলি নিজে পরিপাক হয়ে যায় না। এর কারণ হল গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে এনজাইম গুলো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ক্ষরিত হয়। তা ছাড়া পাকস্থলির অন্তপ্রাচীরের কোষ গুলো মিউকাসের গাঢ় আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে। ফলে সক্রিয় এনজাইম পাকস্থলির মিউকোসা স্তরের কোষের সরাসরি সংস্পর্শে আসে না। আবার পাকস্থলির কোষে প্রোস্টাগ্লান্ডিন নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ আছে যা এসিডকে প্রশমিত করার সাথে সম্পর্কিত। এসব কারণে পাকস্থলি নিজে প্রোটিন হওয়া সত্ত্বেও পরিপাক হয়ে যায় না বরং প্রোটিন খাদ্য পরিপাকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। কাজেই বলা যায় উদ্দীপকের উক্তিটি যথার্থ।

 

(XX) উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়ায় হরমোনের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

(xx) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়ায় এনজাইম আবশ্যক।

এসব এনজাইম নিঃসরণ কয়েকটি নির্দিষ্ট হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। নিম্নে পরিপাকে হরমোনের ভূমিকা উল্লেখ করা হলো:

গ্যাস্ট্রিন: পাকস্থলির পাইলোরিক প্রান্তের গ্রন্থিগুলোর গাত্রের জি-কোষ থেকে গ্যাস্ট্রিন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে পাকস্থলির প্রাচীরে অবস্থিত গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে গ্যাস্ট্রিক জুস নিঃসৃত হয়। এটি HCI এর ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

সিক্রেটিন: অস্ত্রের (ডিওডেনামের) মিউকোসা থেকে এ হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস নিঃসৃত হয়। তাছাড়া এটি পাকস্থলির প্রাচীরকে পেপসিন এনজাইম এবং যকৃতকে পিত্ত ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।

কোলেসিস্টোকাইনিন: এর অপর নাম প্যানক্রিওজাইমিন। ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীর থেকে ক্ষরিত হরমোনটি অগ্ন্যাশয়ের বৃদ্ধি ও বিকাশ এবং অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরণকে উদ্দীপিত করে। এছাড়া এটি পিত্তথলি থেকে পিত্ত বের হতে উদ্দীপনা যোগায়।

সোমাটোস্ট্যাটিন: এই হরমোনটি পাকস্থলি ও অস্ত্রের মিউকোসাতে অবস্থিত ডি-কোষ থেকে ক্ষরিত হয়। এটি গ্যাস্ট্রিনের ক্ষরণ নিবারণ করে ফলে পাকস্থলি রসের ক্ষরণ হ্রাস পায়। এটি অগ্ন্যাশয় রসের ক্ষরণও হ্রাস করে।

এন্টেরোকাইনিন: ইলিয়ামের প্রাচীর থেকে এ হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে ইলিয়ামের প্রাচীরে বিদ্যমান আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে মল্টেজ, সুক্রেজ, ইনভারটেজ ও ল্যাক্টেজ এনজাইম নিঃসৃত হয়।

পেপটাইড YY: ইলিয়ামের প্রাচীর থেকে এ হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে অস্ত্রের ভেতরে দিয়ে ধীর গতিতে খাদ্য প্রবাহিত হয় যাতে দক্ষতার সাথে খাদ্যের পরিপাক ও শোষণ সম্পন্ন হয়।

এন্টারোগ্যাস্ট্রোন: এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীর (ডিওডেনাম) থেকে নিঃসৃত হয়। এ হরমোন পাকস্থলির বিচলন ও গ্যাস্ট্রিক জুস নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করে। গ্যাস্ট্রিক সংকোচন হ্রাস করার জন্য একে গ্যাস্ট্রিক ইনহিবিটরি পেপটাইড বলা হয়।

এন্টারোক্রাইনিন: এটি ক্ষুদ্রান্তের প্রাচীর (ডিওডেনাম) থেকে ক্ষরিত হয়। এটি লিবারকুন 'গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে আন্ত্রিক রসে এনজাইম ও মিউকাস ক্ষরণ করে।

ডিওক্রাইনিন: এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীর (ডিওডেনাম) থেকে ক্ষরিত হয়। এ হরমোন ক্রনারের গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে আন্ত্রিক রসে এনজাইম ও মিউকাস ক্ষরণ করে।

প্যানক্রিয়েটিক পলিপেপটাইড: এটি আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের প্যানক্রিয়েটিক পলিপেপটাইড কোষ থেকে ক্ষরিত হয় এবং অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরণে বাধা দেয়।

ভিল্লিকাইনিন: ক্ষুদ্রান্তের প্রাচীর থেকে এই হরমোন নিঃসৃত হয় এবং ভিলাই এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।

কাজেই বলা যায় "খাদ্য পরিপাকে শুধুমাত্র এনজাইম নয় এবং হরমোন ও বিশেষ ভূমিকা পালন করে"। 



Logo
Dynamic Career
📅 2025-10-17 | 🏷️ Biology 2nd Paper
post image
পরিপাক ও শোষণ প্রশ্ন টাইপ-৩

(xiv) উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' অংশটি সঞ্চয়ী ভূমিকার পাশাপাশি বিপাকীয় ভূমিকাও অনস্বীকার্য- বিশ্লেষণ কর।

(xiv) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' অঙ্গটি হলো যকৃত। যকৃত দেহের প্রধান সঞ্চয় কেন্দ্র। যকৃত সঞ্চয়ী কাজের পাশাপাশি বিপাকীয় কাজেও ভূমিকা রাখে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

গ্লাইকোজেন সঞ্চয়: ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে গ্লুকোজ যকৃতে প্রবেশ করে। রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন এ রূপান্তরিত হয়ে যকৃতের সঞ্চয়ী কোষে জমা থাকে।

রক্ত সঞ্চয়: প্লীহা ও অস্ত্র থেকে বেরিয়ে রক্তবাহিকাগুলো মিলিত হয়ে হেপাটিক পোর্টাল শিরা গঠন করে। যকৃতের ভিতরে দিয়ে রক্ত যদিও অনবরত প্রবাহিত হয় তারপরও এর রক্তবাহিকাগুলোসহ এ শিরা বিপুল পরিমাণ রক্তের ভান্ডার হিসেবে কাজ করে।

ভিটামিন সঞ্চয়: যকৃত স্নেহে (fat) দ্রবণীয় ভিটামিন (A, D, E, K), পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (B ও C), সায়ানো কোবালামিন (B12) এবং ফলিক এসিড সঞ্চয় করে। B₁₂ এবং ফলিক এসিড অস্থিমজ্জায় লোহিত কণিকা তৈরিতে প্রয়োজন হয়।

পিত্তরস উৎপাদন: যকৃত থেকে উৎপন্ন পিত্তরস যকৃতের ডান খণ্ডাংশের নিচে অবস্থিত পিত্তথলিতে জমা থাকে।

দেহের প্রয়োজনে চর্বি এবং অ্যামিনো এসিড ব্যবহারযোগ্য গ্লুকোজে পরিবর্তিত হয়।

মিনারেল সঞ্চয়: যকৃত লৌহ ও পটাসিয়াম সঞ্চয় করে।

যকৃতের বিপাকীয় ভূমিকা:

যকৃত দেহের অভ্যন্তরীণ সাম্যাবস্থা বজায় রাখার প্রধান অঙ্গ। এতে নানা ধরনের জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয় যা দেহের বিপাক ক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যকৃত শর্করা, আমিষ ও স্নেহবস্তু বিপাকের প্রধান স্থান। যকৃতে 'নিচে বর্ণিত বিপাকীয় কার্যাবলী সংঘটিত হয়।

শর্করা বিপাক: যকৃতে শর্করা জাতীয় খাদ্যের গ্লাইকোজেনেসিস ও গ্লুকোনিওজেনেসিস ঘটে। অন্ত্র থেকে শোষিত গ্লুকোজ পোর্টাল শিরার মাধ্যমে যকৃতে প্রবেশ করে। ইনসুলিন হরমোনের প্রভাবে যকৃতে গ্লুকোজ গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা হয়।

প্রোটিন বিপাক: প্রোটিন বিপাকের ডি-অ্যামিনেশন প্রক্রিয়া যকৃতে সংঘটিত হয়। এছাড়া রক্তের প্লাজমার অন্যতম অত্যাবশ্যকীয় উপাদান প্লাজমা প্রোটিন অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, প্রোথ্রম্বিন, ফাইব্রিনোজেন যকৃতে তৈরি হয়।

ফ্যাট বিপাক: যকৃত কোষ অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটকে ফ্যাটে রূপান্তর, রক্ত থেকে কোলেস্টেরল সরিয়ে নেওয়া, ভেঙে ফেলা বা প্রয়োজনে সংশ্লেষ করে। গ্লুকোজের ঘাটতি হলে শ্বসনের উদ্দেশ্যে যকৃত ফ্যাটকে ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।

(xv) 'C' নিঃসৃত এনজাইম সব ধরনের খাবার পরিপাকে সহায়ক- বিশ্লেষণ কর।

(xv) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'C' চিহ্নিত অংশটি হলো অগ্ন্যাশয়। অগ্ন্যাশয় আমিষ, শর্করা, স্নেহ সব জাতীয় খাবার পরিপাককারী এনজাইম নিঃসৃত করে পরিপাকে সাহায্য করে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

শর্করা পরিপাককারী এনজাইম ও তাঁদের কাজ:

a.   অ্যামাইলেজ এনজাইম স্টার্চ ও গ্লাইকোজেন জাতীয় জটিল শর্করাকে মল্টোজে পরিণত করে।

b. মল্টেজ এনজাইম মল্টোজ জাতীয় শর্করাকে গ্লুকোজে পরিণত করে।

আমিষ পরিপাককারী এনজাইম ও তাদের কাজ:

a. ট্রিপসিন এনজাইম প্রোটিওজ ও পেপটোন জাতীয় আমিষ অণুকে পলিপেপটাইডে পরিণত করে।

b. কাইমোট্রিপসিন এনজাইম প্রোটিওজ ও পেপটোন জাতীয় আমিষ অণুকে পলিপেটাইডে পরিণত করে।

c. কার্বক্সিপেপটাইডেজ এনজাইম পলিপেপটাইডের প্রান্তীয় লিঙ্কেজকে সরল পলিপেটাইডে ও অ্যামিনো এসিডে রূপান্তরিত করে।

d. অ্যামিনোপেপটাইডেজ এনজাইম পলিপেপটাইডকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।

e. ট্রাইপেপটাইডেজ এনজাইম ট্রাইপেপটাইডকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।

f. ডাইপেপটাইডেজ এনজাইম ডাইপেপটাইডকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।

g. কোলাজিনেজ এনজাইম কোলাজেন জাতীয় প্রোটিনকে সরল পেপটাইডে রূপান্তরিত করে।

h. ইলাস্টেজ এনজাইম যোজক টিস্যুর প্রোটিন ইলাস্টিনকে ভেঙে পেপটাইড উৎপন্ন করে।

স্নেহ জাতীয় খাদ্য পরিপাককারী এনজাইম ও তাদের কাজ:

a. লাইপেজ এনজাইম চর্বি (লিপিড) কে ভেঙে ফ্যাটি এসিডে রূপান্তরিত করে।

b. কোলেস্টেরল এস্টারেজ এনজাইম কোলেস্টরল এস্টারকে ফ্যাটি এসিডে বিশ্লিষ্ট করে।

 (xvi) উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অঙ্গের কার্যকারিতা স্নায়ুতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল- বিশ্লেষণ কর।

(xvi) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অঙ্গটি হলো পাকস্থলি। পাকস্থলির কার্যকারিতা স্নায়ুতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো: যেসব অঙ্গের উপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই সেগুলো স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। পাকস্থলি এরূপ একটি অঙ্গ। এর কার্যকারিতার উপর মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুর কোনো প্রভাব না থাকায় এরা স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে আপন কাজ সম্পাদন করে। আমাদের গৃহীত খাবার যখন পাকস্থলিতে প্রবেশ করে তখন স্নায়বিক প্রতিবর্তী ক্রিয়ার ফলে এর পেশিবহুল দেয়াল ক্রমান্বয়ে প্রসারিত হতে থাকে। ফলে নতুন গৃহীত খাবার পাকস্থলির প্রথম অংশে প্রবেশ করলে পূর্বের গৃহীত খাবার পরবর্তী অংশে অগ্রসর হয়। এতে করে পাকস্থলির দেয়াল ক্রমশ বাইরের দিকে প্রসারিত হতে থাকে। ফলশ্রুতিতে ক্রমান্বয়ে আরও অধিক পরিমাণ খাবার পাকস্থলিতে ঢুকতে থাকে। এভাবে পাকস্থলি স্বাভাবিক চাপে ০.৮ থেকে ১.৫ লিটার পর্যন্ত খাদ্য উপাদান ধরে রাখতে পারে। এছাড়া পাকস্থলিতে স্বয়ংক্রিয় স্নায়বিক ক্রিয়ায় একটি পেরিস্টাটিক সংকোচনমূলক ঢেউ কাজ করে, যা পাকস্থলিতে জমে থাকা খাদ্যের মিশ্রণে সহায়তা করে। এভাবে স্বায়বিক ক্রিয়ার ফলে পাকস্থলির পেশি সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে খাদ্যবস্তুকে মন্ডে পরিণত করে।

(xvii) উদ্দীপকের 'B' অঙ্গটিকে জৈব রসায়নাগার বলা হয়- বিশ্লেষণ কর।

(xvii) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'B' চিহ্নিত অঙ্গটি হলো যকৃত। দেহের বিপাক ক্রিয়ার জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো যকৃতে সম্পন্ন হয়।

যকৃত পিত্তরস নিঃসরণের মাধ্যমে পরিপাকে সাহায্য করে। এটি লবণ ও পানির সমতা বিধান করে। যকৃত কোষে গ্লাইকোজেন ও চর্বি জাতীয় খাদ্য, ভিটামিন (A) ও ভিটামিন (D) সঞ্চয় করে। রক্তের মধ্যস্থ অপ্রয়োজনীয় উপাদান অপসারণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপাদান ঘাটতি পূরণ করে থাকে। তাছাড়া অ্যামোনিয়া জাতীয় বিষাক্ত পদার্থকে কম ক্ষতিকারক ইউরিয়ায় পরিণত করে। লোহিত কণিকার ধ্বংসের মাধ্যমে পিত্তরঞ্জক বের করে দেয়। দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। রক্ত জমাট বাধায় প্রোথ্রম্বিন ও ফাইব্রিনোজেন যকৃত থেকে নিঃসৃত হয়। যকৃত ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংসে সাহায্য করে। আয়ন সঞ্চয়ের মাধ্যমে যকৃত হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করে। যকৃতের পিত্তরস পৌষ্টিকনালিতে অম্লীয় পরিবেশ প্রশমিত করে এবং পৌষ্টিকনালির সংকোচন ও প্রসারণ ত্বরান্বিত করে। এসব কারণে যকৃতকে মানবদেহের জৈব রসায়নাগার বলে।

Logo
Dynamic Career
📅 2025-10-17 | 🏷️ Biology 2nd Paper
post image
পরিপাক ও শোষণ প্রশ্ন টাইপ-২

(ix) উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অংশে নিঃসৃত এনজাইমের কার্যাবলি লিখ।

(ix) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অংশটি হলো পাকস্থলি। নিম্নে পাকস্থলিতে নিঃসৃত এনজাইমসমূহের কার্যাবলি উল্লেখ করা হলো:

পাকস্থলী থেকে শর্করাবিশ্লেষী কোন এনজাইম নিঃসৃত হয় না। ফলে এর আর কোন পরিবর্তন ঘটে না। গ্যাস্ট্রিক জুসে পেপসিনোজেন ও প্রোরেনিন নামক নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক (আমিষ বিশ্লেষী) এনজাইম থাকে। এ দুটি নিষ্ক্রিয় এনজাইম গ্যাস্ট্রিক জুসের HCI-এর সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে পেপসিন ও রেনিন নামক সক্রিয় এনজাইমে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষের আর্দ্র বিশ্লেষণ ঘটিয়ে প্রোটিওজ ও পেপটোন-এ পরিণত করে। রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে।

                        পেপসিন

১. আমিষ + পানি ------ প্রোটিওজ পেপটোন

                                                রেনিন

২. কেসিন (দুগ্ধ আমিষ) + পানি --প্যারাকেসিন

                       পেপসিন

৩. প্যারাকেসিন --- পেপটোন।

              জিলেটিনেজ

৪. জিলেটিন------ পেপটোন ও পলিপেপটাইড

অম্লীয় মাধ্যমে স্নেহ বিশ্লেষকারী এনজাইম কাজ করতে পারে না কিন্তু পাকস্থলিতে গ্যাস্ট্রিক। লাইপেজ নামক খুব দুর্বল স্নেহ বিশ্লেষকারী এনজাইম থাকে। লাইপোলাইটিকে (স্নেহ বিশ্লেষকারী) এনজাইমের মধ্যে এরা ব্যতিক্রম এ অর্থে যে, এগুলো একমাত্র অম্লীয় মাধ্যমে কাজ করতে সক্ষম। এ এনজাইম কেবল মাখনের চর্বির উপর কাজ করে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

(x) উদ্দীপকের 'A' অঙ্গটি থেকে যে এসিড নিঃসৃত হয় উহার কাজ বর্ণনা কর।

(x) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অঙ্গটি হলো পাকস্থলি। পাকস্থলি থেকে নিঃসৃত এসিডটি হলো HCI বা হাইড্রোক্লোরিক এসিড। পাকস্থলির গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থির প্যারাইটাল বা অক্সিনটিক কোষ HCI নিঃসরণ করে।

a. পাকস্থলিতে অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।

b. ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

c. নিষ্ক্রিয় এনজাইম পেপসিনোজেন ও প্রোরেনিনকে সক্রিয় করে যথাক্রমে পেপসিন ও রেদিনে পরিণত করে। গ্যাস্ট্রিক জুসে বিদ্যমান পেপসিন এনজাইম HCI-এর সাথে মিশে প্রোটিনকে পেপটোনে পরিণত করে। গ্যাস্ট্রিক জুসে বিদ্যমান রেনিন এনজাইম দুধের ক্যাসিনোজেনকে ক্যাসিনে পরিণত করে। এভাবে প্রোটিন পরিপাকেও ভূমিকা রাখে।

d. টায়ালিনের কাজ স্থগিত করে শর্করা পরিপাক বন্ধ করে।

e. বাফার হিসেবে কাজ করে।

(xi) উদ্দীপকের 'B' অংশের পরিপাকে ভূমিকা উল্লেখ কর।

(xi) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'B' অংশটি হলো যকৃত। যকৃত দেহের সবচেয়ে বড় এছি। লালচে খয়েরি রঙের ত্রিকোণাকার এ গ্রন্থিটি ডায়াফ্রামের ঠিক নিচে উদরের অনেকখানি অংশজুড়ে আড়াআড়িভাবে ও কিছুটা ডান দিক ঘেঁষে অবস্থান করে। চারটি অসম্পূর্ণ খন্ড নিয়ে গঠিত যকৃতের ডান খন্ডটি সবচেয়ে বড়। প্রত্যেক খন্ড বহুভূজাকার কোষে গঠিত। অনেকগুলো কোষ মিলে একেকটি অণুখন্ড নির্মিত হয়। প্রত্যেকটি অণুখন্ডের কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় শিরা থাকে। যকৃত কোষগুলোর গা বেয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সাইনুসয়েড ও পিত্তনালিকা প্রসারিত হয়। পিত্তনালিকাগুলো পিত্তথলিতে গিয়ে সমাপ্ত হয়। যকৃত কোষ পিত্তরস ক্ষরণ করে এবং পিত্তথলিতে জমা রাখে। পিত্তরস একটি হলুদাভ তিক্ত স্বাদধারী ক্ষারীয় তরল পদার্থ। এটি অগ্রে ক্ষারীয় মাধ্যম সৃষ্টি করে যা আন্ত্রিক রস ও অগ্ন্যাশয় রসের পরিপাক ক্রিয়ার জন্য অত্যাবশ্যক। তা ছাড়া পিত্তরসে বিদ্যমান পিত্তলবণ ফ্যাট জাতীয় খাদ্যকে ইমালসিফিকেশনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে। এভাবে খাদ্য পরিপাকে উদ্দীপকের B চিহ্নিত অংশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

(xii) শর্করা সঞ্চয়ে 'B' ও 'C' এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।                    

(xii) উত্তরঃ  উদ্দীপকের চিত্রের 'B' ও 'C' অঙ্গগুলো হলো যকৃত এবং অগ্ন্যাশয়। শর্করা সঞ্চয়ে উভয়ই বিশেষ ভূমিকা পালন করে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

শর্করা সঞ্চয়ে যকৃত: শর্করা বিপাকে যকৃতের ভূমিকাই মুখ্য।

গ্লাইকোজেনেসিস: অস্ত্র থেকে হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে চিনি (যেমন-গুকোজ) যকৃতে প্রবেশ করে। এ শিরাটি বিভিন্ন মাত্রায় চিনি বহনকারী একমাত্র রক্তবাহিকা। শর্করা বিপাকে যকৃতই দেহে গ্লুকোজ লেভেল প্রতি ১০০ ঘন সেন্টিমিটারে ৯০ মিলিগ্রাম গুকোজ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করে। যে ধরনের খাবারই গ্রহণ করা হোক না কেন রক্তে গ্লুকোজ লেভেল যেন না বাড়ে বা কমে, যকৃত তা প্রতিরোধ করে। গ্যালাক্টোজ, ফ্রুক্টোজসহ সমস্ত হেক্সোজ চিনিকে যকৃত গুকোজে পরিবর্তিত করে গ্লাইকোজেন নামক অদ্রবণীয় পলিস্যাকারাইড হিসেবে জমা রাখে। গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন রূপান্তর প্রক্রিয়াটিকে গ্রাইকোজেনেসিস বলে। প্রক্রিয়াটি ইনসুলিনের উপস্থিতিতে উদ্দীপ্ত হয়। ইনসুলিন হচ্ছে রক্তে চিনির লেভেল বেড়ে গেলে তার প্রতি সাড়া হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে উৎপন্ন হরমোন।

গ্লুকোনিয়োজেনেসিস: যে জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অশর্করা জাতীয় বস্তু থেকে গ্লুকোজ শর্করা উৎপন্ন হয়, তাকে গ্লকোনিয়োজেনেসিস বলে। এটি শর্করার উপচিতিমূলক বিপাক। এটি প্রধানত যকৃত কোষের সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়। দেহের চাহিদার প্রেক্ষিতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অত্যধিক কমে গেলে যকৃত অ্যামিনো এসিড, ল্যাকটিক এসিড, পাইরুভিক এসিড, গ্লিসারল ইত্যাদি অশর্করা জাতীয় বস্তু থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে রক্তে প্রেরণ করে, ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ে। এ প্রক্রিয়াটি গ্লুকাগন হরমোন দ্বারা উদ্দীপ্ত হয়। এভাবে যকৃত রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা ৯০ মিলিগ্রাম/১০০ ঘন সেন্টিমিটার বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

শর্করা সঞ্চয়ে অগ্ন্যাশয়:

অগ্ন্যাশয়ের আলফা ও বিটা কোষ যথাক্রমে গ্লুকাগন ও ইনসুলিন হরমোন ক্ষরণ করে। এ দুটি হরমোন যথাক্রমে গ্লুকোজ এর পরিমাণ দেহে বৃদ্ধি ও কমাতে সক্ষম। অ্যামাইলেজ ও মল্টেজ এনজাইম সম্মিলিতভাবে মল্টোজ জাতীয় গ্লুকোজে পরিণত করতে পারে। যা পরবর্তীতে যকৃতে সঞ্চিত হতে পারে।

এভাবেই যকৃত ও অগ্ন্যাশয় শর্করা সঞ্চয়ে ভূমিকা রাখে।

(xiii) উদ্দীপকের 'A' অংশটিতে আমিষ ও লিপিড জাতীয় খাদ্যের পরিপাক হলেও শর্করা পরিপাক পরিলক্ষিত হয় না- বিশ্লেষণ কর।  

(xiii) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'A' হলো পাকস্থলি। পাকস্থলিতে আমিষ ও লিপিড জাতীয় খাদ্যের পরিপাক হলেও শর্করা পরিপাক হয় না। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

আমিষ পরিপাক: গ্যাস্ট্রিক জুসে পেপসিনোজেন ও প্রোরেনিন নামক নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক (আমিষ বিশ্লেষী) এনজাইম থাকে। এ দুটি নিষ্ক্রিয় এনজাইম গ্যাস্ট্রিক জুসের HCI এর সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে পেপসিন ও রেনিন নামক সক্রিয় এনজাইমে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষের আর্দ্র বিশ্লেষণ ঘটিয়ে প্রোটিওজ ও পেপটোন-এ পরিণত করে। রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিন এ পরিণত করে। এছাড়া পাচকরসের জিলেটিনেজ নামক এনজাইম জিলেটিন নামক আমিষকে আংশিক পরিপাক করে পেপটোন ও পলিপেপটাইড উৎপন্ন করে।

স্নেহ পরিপাক: অম্লীয় মাধ্যমে স্নেহ বিশ্লেষকারী এনজাইম কাজ করতে পারে না কিন্তু পাকস্থলিতে গ্যাস্ট্রিক লাইপেজ নামক খুব দুর্বল স্নেহ বিশ্লেষকারী এনজাইম থাকে। লাইপোলাইটিক (স্নেহ বিশ্লেষণকারী) এনজাইমের মধ্যে এরা ব্যতিক্রম এ অর্থে যে, এগুলো একমাত্র অম্লীয় মাধ্যমে কাজ করতে সক্ষম। এ এনজাইম কেবল মাখনের চর্বির (butter fat) উপর কাজ করে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

শর্করা পরিপাক: পাকস্থলি থেকে শর্করাবিশ্লেষী কোন এনজাইম নিঃসৃত হয় না। ফলে শর্করা জাতীয় খাদ্যের কোন পরিবর্তন ঘটে না। সুতরাং উপরোক্ত বিশ্লেষণ থেকে বলা যায় পাকস্থলি বা উদ্দীপকের A অংশটিতে আমিষ ও লিপিড জাতীয় খাদ্যের পরিপাক হলেও শর্করা পরিপাক হয় না।

Logo
Dynamic Career
📅 2025-10-17 | 🏷️ Biology 2nd Paper
post image
পরিপাক ও শোষণ প্রশ্ন টাইপ-১


গ-বিভাগ

(i) চিত্রের 'C' এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।    

(ii) উদ্দীপকের 'E' এর মানবদেহে ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।                                                      

(iii) পরিপাকে উদ্দীপকের 'B' অংশের ভূমিকা উল্লেখ কর।                               

(iv) উদ্দীপকের 'A' অংশটিতে খাদ্য পরিপাক পদ্ধতি বর্ণনা কর।                             

(v) 'C' একটি মিশ্র গ্রন্থি- ব্যাখ্যা কর।      

(vi) উদ্দীপকের 'D' অংশে আমিষ জাতীয় খাদ্য পরিপাক বর্ণনা কর।                              

(vii) দেহকে সহেজ রাখতে 'A' এর কার্যক্রম ব্যাখ্যা কর।                                  

(viii) উদ্দীপকের 'B' এর সঞ্চয়ী ভূমিকা বর্ণনা কর।                                          

(ix) উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অংশে নিঃসৃত এনজাইমের কার্যাবলি লিখ।                    

(x) উদ্দীপকের 'A' অঙ্গটি থেকে যে এসিড নিঃসৃত হয় উহার কাজ বর্ণনা কর।             

(xi) উদ্দীপকের 'B' অংশের পরিপাকে ভূমিকা উল্লেখ কর।                                     

ঘ বিভাগ

(xii) শর্করা সঞ্চয়ে 'B' ও 'C' এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।                           

(xiii) উদ্দীপকের 'A' অংশটিতে আমিষ ও লিপিড জাতীয় খাদ্যের পরিপাক হলেও শর্করা পরিপাক পরিলক্ষিত হয় না- বিশ্লেষণ কর।   (xiv) উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' অংশটি সঞ্চয়ী ভূমিকার পাশাপাশি বিপাকীয় ভূমিকাও অনস্বীকার্য- বিশ্লেষণ কর।

(xv) 'C' নিঃসৃত এনজাইম সব ধরনের খাবার পরিপাকে সহায়ক- বিশ্লেষণ কর।

(xvi) উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অঙ্গের কার্যকারিতা স্নায়ুতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল- বিশ্লেষণ কর।

(xvii) উদ্দীপকের 'B' অঙ্গটিকে জৈব রসায়নাগার বলা হয়- বিশ্লেষণ কর।

(xviii) সব ধরনের খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক 'D' চিহ্নিত অংশে সংঘটিত হয়- বিশ্লেষণ কর।

(xix) উদ্দীপকের 'A' অংশটি খাদ্য পরিপাক করে কিন্তু নিজে পরিপাক হয় না- বিশ্লেষণ কর।

(XX) উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়ায় হরমোনের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

 

উত্তর

(i) চিত্রের 'C' এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।    

(i) উত্তরঃ উদ্দীপকের 'C' চিহ্নিত অংশ হলো অগ্নাশয়। নিম্নে অগ্ন্যাশয়ের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-

অগ্ন্যাশয় পাকস্থলির নিচে অবস্থিত এবং উদর গহ্বরের ডিওডেনামের অর্ধবৃত্তাকার কুণ্ডলীর ফাঁক থেকে প্লীহা পর্যন্ত বিস্তৃত। অগ্ন্যাশয় একই সাথে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা উভয় প্রকার গ্রন্থির সমন্বয়ে গঠিত। অগ্ন্যাশয়ে অসংখ্য লোবিউল বা অ্যাসিনাস থাকে। অগ্ন্যাশয়ের গ্রন্থিগুলো থেকে ছোট ছোট নালিকা বেরিয়ে একত্রিত হয় এবং উইসাং নালি গঠন করে। অগ্ন্যাশয় রস থেকে নিঃসৃত এনজাইম অ্যামাইলেজ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য, লাইপেজ লিপিড বা ফ্যাট জাতীয় খাদ্য এবং প্রোটিয়েজ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য পরিপাক করে। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন, গ্লুকাগন, সোমাটোস্ট্যাটিন, পলিপেপটাইড ক্ষরণ করে। অগ্ন্যাশয় একই সাথে পরিপাককারী এনজাইম এবং হরমোন নিঃসরণ করে। এজন্য অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়।

 

(ii) উদ্দীপকের 'E' এর মানবদেহে ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

(ii) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'E' চিহ্নিত অংশ হলো বৃহদন্ত্র। মানবদেহে বৃহদন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো-

বৃহদন্ত্রের কোলন অংশ পাকমণ্ড হতে অবশিষ্ট পানি ও আয়নসমূহ শোষণ করে প্রায় কঠিন মল তৈরি করে এবং মল নিষ্কাশিত না হওয়া পর্যন্ত তা সঞ্চয় বা ধারণ করে। এটি বৃহদন্ত্রের প্রধান কাজ। এখানে কোনো পরিপাক সম্পন্ন হয় না। বৃহদন্ত্র বিভিন্ন প্রকার কাজ করে থাকে। নিচে মানুষের বৃহদন্ত্রের প্রধান ভূমিকাগুলো উল্লেখ করা হলো:

খাদ্যের অসার অংশ সঞ্চয়: খাদ্যের অপাচ্য অংশ সাময়িকভাবে বৃহদন্ত্রে সঞ্চিত থাকে। ইলিয়াম থেকে অপরিপাককৃত খাদ্যবস্তু পানিসহ সিকামের মাধ্যমে কোলনে আসে। অপাচ্য খাদ্যবস্তু এখানে ৩৬ ঘণ্টা থাকে।

ক্ষরণ: বৃহদন্ত্রের মিউকোসা স্তরে গবলেট কোষ মিউকাস ক্ষরণ করে এবং বৃহদন্ত্রের অভ্যন্তরকে পিচ্ছিল রাখে।

শোষণ: খাদ্যের অপাচ্য অংশের প্রায় শতকরা ৭০-৮০ ভাগ পানি বৃহদন্ত্রের কোলন দ্বারা পুনঃশোষিত হয়। এছাড়া গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড, অজৈব লবণ, ফলিক এসিড, ভিটামিন-K এবং ভিটামিন-B এখানে শোষিত হয়।

ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়া: বৃহদন্ত্রে অনেক মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া (প্রায় ৫০০ প্রজাতি) থাকে। এরা খাদ্যের অপাচ্য অংশের গাঁজন ও পাচন ঘটায়। ক্ষুদ্র শিকল ফ্যাটি এসিড ব্যাকটেরিয়া এবং কোলনের প্রাচীরের কোষে শক্তি জোগায়। বৃহদন্ত্রে অবস্থিত ব্যাকটেরিয়া ফলিক এসিড, ভিটামিন-K এবং ভিটামিন-B12 উৎপন্ন করে।

মল উৎপাদন: বৃহদন্ত্রে পানি, গুকোজ, অ্যামিনো এসিড, লবণ ইত্যাদি শোষণের পর ৩৫০ গ্রাম তরুল মণ্ড থেকে ১৩৫ গ্রাম আর্দ্র মল উৎপন্ন হয়।

সঞ্চালনমূলক কাজ: বৃহদন্ত্রের ক্রমসংকোচনের ফলে কোলন, পেলিবিক কোলন ও মলাশয় হতে অর্ধকঠিন মল পায়ু পথে দেহের বাইরে নির্গত হয়।

(iii) পরিপাকে উদ্দীপকের 'B' অংশের ভূমিকা উল্লেখ কর।

(iii) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' অংশটি হলো যকৃত। নিম্নে পরিপাকে যকৃতের ভূমিকা উল্লেখ করা হলো-

কার্বোহাইড্রেটের বিপাক: কার্বোহাইড্রেটের বিপাকে যকৃত বিশেষভাবে অংশগ্রহণ করে। যকৃত গুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ থেকে কার্বোহাইড্রেট, ল্যাকটিক এসিড, পাইরুভিক এসিড এবং গ্লিসারল থেকে কার্বোহাইড্রেট, কার্বোহাইড্রেট থেকে স্নেহপদার্থ ইত্যাদির সংশ্লেষণ ঘটায়, এমনকি রক্ত শর্করার সাম্যাবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রোটিনের বিপাক: প্লাজমাপ্রোটিন, ইউরিয়া প্রভৃতির সংশ্লেষণ, ডিঅ্যামাইনেশন, ট্রান্স-অ্যামাইনেশন প্রভৃতি যকৃতে সম্পন্ন হয়। প্লাজমাপ্রোটিন- অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রোম্বিন প্রভৃতি যকৃতে তৈরি হয়।

স্নেহদ্রব্যের বিপাক: ফ্যাটি অ্যাসিডের জারণ, কিটোন পদার্থ উৎপাদন, ফসফোলিপিডের সংশ্লেষণ, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন থেকে স্নেহদ্রব্যের উৎপাদন প্রভৃতি যকৃতেই সম্পন্ন হয়।

গ্লাইকোজেন সঞ্চয়: রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি হলে হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে গুকোজ যকৃতে এসে গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত হয় এবং তা যকৃতে জমা থাকে।

যকৃতে এরূপ প্রায় 500 ধরণের গুরুত্বপূর্ণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয় যা পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

(iv) উদ্দীপকের 'A' অংশটিতে খাদ্য পরিপাক পদ্ধতি বর্ণনা কর।         

(iv) উত্তরঃ  উদ্দীপকের 'A' অংশটি হলো পাকস্থলি। নিম্নে পাকস্থলিতে খাদ্য পরিপাক পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-

যান্ত্রিক পরিপাক:

মুখ থেকে চর্বিত খাদ্য অন্ননালিপথে পাকস্থলিতে এসে ২-৬ ঘণ্টাকাল অবস্থান করে। এসময় প্যারাইটাল কোষ থেকে HCI ক্ষরিত হয়ে খাদ্যবাহিত অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়। পেশিন্তর বিভিন্ন দিকমুখি হওয়ায় পাকস্থলি প্রাচীর নানাদিকে সঞ্চালিত হয়ে (মোচড় দিয়ে, সঙ্কুচিত হয়ে কিংবা চাপা হয়ে) মুখগহ্বর থেকে আসা অর্ধচূর্ণ খাদ্যকে পিষে পেস্ট-এ পরিণত করে। এসময় গ্যাস্ট্রিক জুস ক্ষরিত হয়ে পাকস্থলির যান্ত্রিক চাপে পিষ্ট খাদ্যের সঙ্গে মিশে ঘন স্যুপের মতো মিশ্রণে পরিণত হয়। খাদ্যের এ অবস্থা কাইম বা মন্ড নামে পরিচিত।

আমিষ পরিপাক:

                         পেপসিন

i.  আমিষ + পানি ------ প্রোটিওজ + পেপটোন

                                                রেনিন

ii. কেসিন (দুগ্ধ আমিষ)+ পানি ------ প্যারাকেসিন

                         পেপসিন

iii. প্যারাকেসিন ------- পেপটোন

                    জিলেটিনেজ

iv. জিলেটিন -------- পেপটোন ও পলিপেপটাইড

স্নেহ পরিপাক: অম্লীয় মাধ্যমে স্নেহ বিশ্লেষকারী এনজাইম কাজ করতে পারে না কিন্তু পাকস্থলিতে গ্যাস্ট্রিক লাইপেজ নামক খুব দুর্বল স্নেহ বিশ্লেষকারী এনজাইম থাকে। লাইপোলাইটিক (স্নেহ বিশ্লেষণকারী) এনজাইমের মধ্যে এরা ব্যতিক্রম এ অর্থে যে, এগুলো একমাত্র অম্লীয় মাধ্যমে কাজ করতে সক্ষম। এ এনজাইম কেবল মাখনের চর্বির উপর কাজ করে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্ধপাচিত এ খাদ্য ধীরে ধীরে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করে। পাকস্থলির পাইলোরিক প্রান্তে অবস্থিত স্ফিংক্টার (sphincter = পেশির বেড়ী যা ছিদ্রপথকে বেষ্টন করে থাকে) পাকস্থলি থেকে ডিওডেনামে খাদ্যের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।

শর্করা পরিপাক: পাকস্থলি থেকে শর্করাবিশ্লেষী কোন এনজাইম নিঃসৃত হয় না। ফলে শর্করা জাতীয় খাদ্যের কোন পরিবর্তন ঘটে না। সুতরাং উপরোক্ত বিশ্লেষণ থেকে বলা যায় পাকস্থলি বা উদ্দীপকের A অংশটিতে আমিষ ও লিপিড জাতীয় খাদ্যের পরিপাক হলেও শর্করা পরিপাক হয় না।

(v) 'C' একটি মিশ্র গ্রন্থি- ব্যাখ্যা কর।

(v) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত 'C' হলো অগ্ন্যাশয়। অগ্ন্যাশয় পাকস্থলির নিচে অবস্থিত এবং উদর গহ্বরের ডিওডেনামের অর্ধবৃত্তাকার কুণ্ডলীর ফাঁক থেকে প্লীহা পর্যন্ত বিস্তৃত। অগ্ন্যাশয় একই সাথে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা উভয় প্রকার গ্রন্থির সমন্বয়ে গঠিত। অগ্ন্যাশয়ে অসংখ্য লোবিউল বা অ্যাসিনাস থাকে। অগ্ন্যাশয়ের গ্রন্থিগুলো থেকে ছোট ছোট নালিকা বেরিয়ে একত্রিত হয় এবং উইসাং নালি গঠন করে। অগ্ন্যাশয় রস থেকে নিঃসৃত এনজাইম অ্যামাইলেজ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য, লাইপেজ লিপিড বা ফ্যাট জাতীয় খাদ্য এবং প্রোটিয়েজ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য পরিপাক করে। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন, গ্লুকাগন, সোমাটোস্ট্যাটিন, পলিপেপটাইড ক্ষরণ করে। অগ্ন্যাশয় একই সাথে পরিপাককারী এনজাইম এবং হরমোন নিঃসরণ করে। এজন্য অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়।

(vi) উদ্দীপকের 'D' অংশে আমিষ জাতীয় খাদ্য পরিপাক বর্ণনা কর।

(vi) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত 'D' অংশটি হলো ক্ষুদ্রান্ত্র। প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক ক্ষুদ্রান্ত্রের আমিষ পরিপাককারী এনজাইম ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, ট্রাইপেপডাইডেজ, ডাই-পেপটাইডেজ ইত্যাদি বিদ্যমান থাকে।

১. ট্রিপসিন এনজাইম নিষ্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেনরূপে ক্ষরিত হয়। ডিওডেনামের মিউকোসা নিঃসৃত এন্টেরোকাইনেজ এনজাইমের সহায়তায় এটি সক্রিয় ট্রিপসিনে পরিণত হয়। ট্রিপসিন প্রোটিওজ ও পেপটোন জাতীয় আমিষকে ভেঙ্গে পলিপেপটাইডে পরিণত করে।

                               ট্রিপসিন

প্রোটিওজ ও পেপটোন-------® পলিপেপটাইড

২. কাইমোট্রিপসিন নিষ্ক্রিয় কাইমোট্রিপসিনোজেনরূপে ক্ষরিত হয়। পরে ট্রিপসিনের ক্রিয়ায় এটি সক্রিয় কাইমোট্রিপসিনে পরিণত হয়। এটি প্রোটিওজ ও পেপটোনকে ভেঙ্গে পলিপেপটাইডে পরিণত করে।

                             কাইমোট্রিপসিন

প্রোটিওজ ও পেপটোন ------------ পলিপেপটাইড +অ্যামিনো এসিড

৩. কার্বোক্সিপেপটাইডেজ এনজাইম লিঙ্কেজকে সরল পেপটাইড (ডাইপেপটাইড) ও অ্যামিনো এসিডে রূপান্তরিত করে।

                        কার্বোক্সিপেপটাইডেজ

পলিপেপটাইড------------------- ডাইপেপটাইড + অ্যামিনো এসিড।

                  অ্যামিনোপেপটাইডেজ

৪. পলিপেপটাইড ----------- অ্যামিনো এসিড।

                       ট্রাইপেপটাইডেজ

৫. ট্রাইপেপটাইড ----------- অ্যামিনো এসিড।

                        ডাইপেপটাইডেজ

৬. ডাইপেপটাইড----------- অ্যামিনো এসিড।

 

(vii) দেহকে সহেজ রাখতে 'A' এর কার্যক্রম ব্যাখ্যা কর।     

(vii) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অঙ্গটি হলো পাকস্থলি। পরিপাক ক্রিয়া সম্পাদনের মাধ্যমে পাকস্থলি দেহকে সতেজ রাখে।

অন্ননালি ও ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্যবর্তী স্থানে পাকস্থলির অবস্থান। এর আকৃতি থলের মতো। এর প্রাচীর বেশ পুরু ও পেশিবহুল, গলবিল ও অন্ননালির ক্রমসংকোচনের ফলে পিচ্ছিল খাদ্যবস্তু এখানে এসে জমা হয়। পাকস্থলি নিম্নরূপ কাজগুলো করে থাকে-

a.  পাকস্থলিতে সাময়িকভাবে খাদ্যবস্তু জমা থাকে।

b.  গ্যাস্ট্রিক জুসে বিদ্যমান HCI পাকস্থলিতে অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে, ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং নিষ্ক্রিয় এনজাইমকে সক্রিয় করে।

c.  গ্যাস্ট্রিক জুসে বিদ্যমান পেপসিন এনজাইম HCI-এর সাথে মিশে প্রোটিনকে পেপটোনে পরিণত করে।

d.  গ্যাস্ট্রিক জুসে বিদ্যমান রেনিন এনজাইম দুধের ক্যাসিনোজেনকে ক্যাসিনে পরিণত করে।

e.  গ্যাস্ট্রিক জুস পাকস্থলির প্রাচীর সুরক্ষা করে এবং গ্যাস্ট্রিক আলসার প্রতিরোধ করে।

f.  কিছু বিষাক্ত বস্তু, ভারী ধাতু, অ্যালকালয়েড বস্তু ইত্যাদি গ্যাস্ট্রিক জুসের সাথে দেহ থেকে বহিষ্কৃত হয়।

g.  বাফার হিসেবে কাজ করে।

(viii) উদ্দীপকের 'B' এর সঞ্চয়ী ভূমিকা বর্ণনা কর।

(viii) উত্তরঃ  উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' হলো যকৃত। নিম্নে যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকা উল্লেখ করা হলো:

গ্লাইকোজেন সঞ্চয়: ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে গ্লুকোজ যকৃতে প্রবেশ করে। রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন-এ রূপান্তরিত হয়ে যকৃতের সঞ্চয়ী কোষে জমা থাকে। ইনসুলিন নামক হরমোন এ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। প্রয়োজনে এ গ্লাইকোজেন ভেঙ্গে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখে।

রক্ত সঞ্চয়: প্লীহা ও অন্ত্র থেকে বেরিয়ে রক্ত বাহিকাগুলো মিলিত হয়ে হেপাটিক পোর্টাল শিরা গঠন করে। যকৃতের ভেতর দিয়ে রক্ত যদিও অনবরত প্রবাহিত হয় তারপরও এর রক্তবাহিকাগুলোসহ এ শিরা বিপুল পরিমাণ রক্তের ভান্ডার হিসেবে কাজ করে। যকৃত প্রায় ১৫০০ ঘন সে.মি. পর্যন্ত রক্ত সঞ্চয় করে রাখতে পারে যা দেহের বিভিন্ন রক্তক্ষরণ-জনিত ঘটনায় মূল রক্তসংবহনের সাথে মিলিত হয়ে রক্তচাপের সমন্বয় ঘটায়।

ভিটামিন সঞ্চয়: যকৃত স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনসমূহ (A. D. E, K), পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (B ও C). সায়ানোকোবালামিন (B12) এবং ফলিক এসিড সঞ্চয় করে। B12 এবং ফলিক এসিড অস্থিমজ্জায় লোহিত কণিকা তৈরিতে প্রয়োজন হয়।

খনিজদ্রব্য সঞ্চয়: সুস্থ দেহের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ, যেমন- কপার, জিংক, কোবাল্ট, মলিবডেনাম প্রভৃতিসহ আয়রন ও পটাশিয়াম যকৃতে সঞ্চিত থাকে।

পিত্তরস: যকৃত কর্তৃক উৎপন্ন পিত্তরস যকৃতের ডান খণ্ডাংশের নিচে অবস্থিত পিত্তথলিতে সঞ্চিত থাকে।

Logo
Dynamic Career
📅 2025-08-02 | 🏷️ HSC ICT
post image
"ICT Chapter 1: বাংলা সহজ ভাষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরিচিতি" এই টাইটেলের জন্য একটি ছবি তৈরিকরে দাও

🌐 গ্লোবাল ভিলেজ (Global Village)

🔍 বিস্তারিত পরিচিতি:

"গ্লোবাল ভিলেজ" অর্থ পৃথিবী যেন একটি গ্রাম — যেখানে মানুষ খুব সহজেই যোগাযোগ করতে পারে, তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে। ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, সামাজিক মাধ্যম ইত্যাদি যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ধারণা বাস্তবে রূপ পেয়েছে।

  • বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার উপাদানসমূহ:

১. হার্ডওয়্যার (Hardware):
কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, স্মার্টফোন, রেডিও, টেলিভিশন, অডিও-ভিডিও রেকর্ডার, স্যাটেলাইট ইত্যাদি যন্ত্রপাতি।

২. সফটওয়্যার (Software):
অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজিং সফটওয়্যার, যোগাযোগমূলক সফটওয়্যার, প্রোগ্রামিং ভাষা ইত্যাদি।

৩. নেটওয়ার্ক সংযুক্ততা (Connectivity):
তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি নিরাপদ এবং কার্যকর নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা, যেমন: ইন্টারনেট।

৪. ডেটা বা তথ্য (Data):
ডেটা হলো অপরিশোধিত তথ্য যা প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য তথ্য বা ইনফরমেশনে পরিণত হয়।

৫. মানুষের সক্ষমতা:
তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের জ্ঞান, সচেতনতা ও দক্ষতা।

✅ সুবিধাসমূহ:

  1. দ্রুত যোগাযোগ: বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মুহূর্তেই বার্তা পাঠানো যায়।

  2. তথ্যের সহজলভ্যতা: যেকোনো বিষয়ে তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাওয়া যায়।

  3. অনলাইন শিক্ষা: ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব।

  4. ব্যবসায়িক সুবিধা: আন্তর্জাতিকভাবে পণ্য/সেবা বিক্রি ও কেনা যায়।

  5. সাংস্কৃতিক বিনিময়: বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ভাষা, জীবনধারা জানা যায়।

  6. দূরবর্তী চিকিৎসা (টেলিমেডিসিন): দূরবর্তী রোগীরা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন।

  7. দ্রুত সংবাদ প্রাপ্তি: তাৎক্ষণিক বিশ্বসংবাদ জানা যায়।

❌ অসুবিধাসমূহ:

  1. সংস্কৃতির আগ্রাসন: স্থানীয় সংস্কৃতি ও ভাষা হারানোর আশঙ্কা থাকে।

  2. সাইবার অপরাধ: তথ্য চুরি, প্রতারণা, হ্যাকিং ইত্যাদির ঝুঁকি বাড়ে।

  3. বেকারত্ব: স্বয়ংক্রিয়তা ও অনলাইন পরিষেবায় অনেক চাকরি হুমকিতে পড়ে।

  4. তথ্যের বিশৃঙ্খলা: ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

  5. গোপনীয়তার অভাব: অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য অনিরাপদ হতে পারে।

  6. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: বাস্তবিক মানবিক সম্পর্ক হ্রাস পায়।

  7. অর্থনৈতিক বৈষম্য: উন্নত দেশগুলোর আধিপত্য বৃদ্ধি পায়।


🕶️ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (Virtual Reality)

🔍 বিস্তারিত পরিচিতি:

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) হলো একটি কৃত্রিম, কম্পিউটার-নির্মিত পরিবেশ, যা ব্যবহারকারী অনুভব করতে পারেন যেন তিনি সেই পরিবেশের মধ্যেই আছেন। এটি বিশেষ চশমা (VR হেডসেট) বা ডিভাইস ব্যবহার করে অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

✅ সুবিধাসমূহ:

  1. বাস্তব অভিজ্ঞতা: ভার্চুয়াল জগতে বাস্তবের মতো অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

  2. নিরাপদ প্রশিক্ষণ: চিকিৎসক, পাইলট বা সেনা বাহিনীর জন্য ঝুঁকিমুক্ত প্রশিক্ষণ সম্ভব।

  3. শিক্ষায় সহায়ক: ইতিহাস, জীববিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞানের বিষয় সহজে শেখা যায়।

  4. মনের বিনোদন: গেম, সিনেমা ও থ্রিডি ভ্রমণের জন্য চমৎকার মাধ্যম।

  5. দূরবর্তী ভ্রমণ: ঘরে বসেই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান “দেখা” যায়।

  6. মানসিক চিকিৎসা: ফোবিয়া, PTSD-এর মতো মানসিক সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহার হয়।

❌ অসুবিধাসমূহ:

  1. দামী প্রযুক্তি: VR ডিভাইস ও সফটওয়্যার অনেক ব্যয়বহুল।

  2. স্বাস্থ্য ঝুঁকি: চোখের সমস্যা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব দেখা দিতে পারে।

  3. আসক্তি তৈরি: অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি করে।

  4. বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্নতা: ব্যবহারকারী বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে যেতে পারেন।

  5. নকল অভিজ্ঞতা: সব কিছু কৃত্রিম হওয়ায় বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর নয়।

  6. ডেটা গোপনীয়তার ঝুঁকি: ব্যবহারকারীর মুভমেন্ট বা আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়।


❄️ ক্রায়োসার্জারি (Cryosurgery)

🔍 বিস্তারিত পরিচিতি:

ক্রায়োসার্জারি হলো এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে তীব্র ঠাণ্ডা (সাধারণত তরল নাইট্রোজেন) ব্যবহার করে শরীরের অসুস্থ বা অপ্রয়োজনীয় কোষ নষ্ট করা হয়। এটি একটি অ-প্রচলিত কিন্তু কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি।

✅ সুবিধাসমূহ:

  1. নিরাপদ টিউমার অপসারণ: ক্যানসার কোষ নষ্ট করতে ব্যবহৃত হয়।

  2. কম রক্তপাত: প্রচলিত অস্ত্রোপচারের তুলনায় কম ক্ষতি হয়।

  3. দ্রুত আরোগ্য: রোগী খুব দ্রুত সেরে ওঠেন।

  4. দাগ কম: কাটাছেঁড়া প্রায় হয় না বলে চর্মে দাগ পড়ে না।

  5. স্থানীয়ভাবে প্রয়োগযোগ্য: নির্দিষ্ট এলাকায় প্রয়োগ করে নির্ভুল চিকিৎসা সম্ভব।

❌ অসুবিধাসমূহ:

  1. বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন: এটি পরিচালনার জন্য দক্ষ চিকিৎসকের প্রয়োজন।

  2. সব ক্ষেত্রে কার্যকর নয়: সব ধরনের ক্যানসার বা টিউমারে কাজ নাও করতে পারে।

  3. সাধারণ চিকিৎসা কেন্দ্রে অনুপলব্ধ: গ্রামীণ বা ছোট হাসপাতালে পাওয়া যায় না।

  4. ঝুঁকি রয়ে যায়: ভুল প্রয়োগে আশেপাশের সুস্থ কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

  5. ব্যয়বহুল: উন্নত যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হওয়ায় খরচ বেশি

Exam System