প্রশ্ন ও উত্তর দেখুন

পূর্ণ প্রশ্ন

পূর্ণমান: 10
বিষয়: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র অধ্যায়: প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস শ্রেণি: ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষ বোর্ড: চট্টগ্রাম বোর্ড সাল: ২০২৩

প্রশ্ন ৫ । নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-

uploaded image

ক. সিলোম কী?

খ. জীববৈচিত্র্য বলতে কী বুঝ?

গ. উদ্দীপকের 'P' প্রাণীটিকে মাছ নামে জানলেও প্রকৃতপক্ষে মাছ নয়- ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের 'Q' প্রাণীটি সংরক্ষণের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

সমাধান

১৫নং প্রশ্নের উত্তর

ক. ভূণীয় মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত ভিসেরাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত দেহ গহ্বরই হলো সিলোম।

খ. পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের জিনগত, প্রজাতিগত ও পরিবেশগত কারণে যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় সামগ্রিকভাবে তাকে জীববৈচিত্র্য বলে। জীব বলতে অণুজীব, ছত্রাক, উদ্ভিদ ও প্রাণীকে বুঝায়। এরা একটি থেকে অপরটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং পৃথকযোগ্য। কাজেই জীববৈচিত্র্যকে সাধারণত তিনটি পর্যায়ে আলোচনা করা যায়। যথা: জিনগত বৈচিত্র্য, প্রজাতিগত বৈচিত্র্য এবং ইকোসিস্টেমগত বৈচিত্র্য। এ তিন প্রকার বৈচিত্র্য মিলিতভাবে সৃষ্টি করে জীববৈচিত্র্য।

গ. উদ্দীপকের P প্রাণীটি হলো তারামাছ। তারামাছকে মাছ নামে জানলেও এটি প্রকৃতপক্ষে মাছ নয়। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-

১. মাছ মেরুদন্ডী প্রাণী হলেও তারামাছ অমেরুদন্ডী।

২. মাছ কঠিন অস্থিনির্মিত অন্তঃকঙ্কালবিশিষ্ট প্রাণী। কিন্তু তারামাছ বহিঃকঙ্কালযুক্ত।

৩. মাছের দেহ সাইক্রয়েড বা টিনয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত থাকে। কিন্তু তারামাছের দেহে এ ধরনের কোনো আঁইশ থাকে না। এদের ত্বক থাকে কন্টকময়।

৪. মাছের শ্বসন অঙ্গে চার জোড়া ফুলকা থাকলেও তারামাছের তা নেই। তারামাছের শ্বসন ও চলনক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত পানি সংবহনতন্ত্র থাকে।

৫. মাছের বায়ুখলি বা পটকা নামক বিশেষ শ্বসন অঙ্গ থাকে যা মাছকে ভেসে থাকতে সহায়তা করে। তারামাছের এ ধরনের কোনো শ্বসন অঙ্গ থাকে না।

৬. মাছের দেহ লম্বা অশ্বিময় পাখনারশ্মি যুক্ত এবং পুচ্ছ-পাখনা হোমোসার্কাল ধরনের। তারামাছের এ ধরনের কোনো পাখনা থাকে না।

 উপরের বর্ণনার আলোকে বলা যায়, তারামাছের বৈশিষ্ট্য মাছের বৈশিষ্ট্য থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এ কারণে তারামাছ প্রকৃতপক্ষে মাছ নয়।

ঘ. উদ্দীপকের P প্রাণীটি হলো রুই মাছ। রুই মাছ বাংলাদেশের অতি পরিচিত, সুস্বাদু এবং জনপ্রিয় মাছ। এক সময় আমাদের দেশের প্রাকৃতিক জলাশয়সহ পুকুর, দীঘিতে প্রচুর রুই মাছ পাওয়া গেলেও এখন আর তা পাওয়া যায় না। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষি জমির প্রসার, জলাভূমি কেটে ভরাট, বাঁধ নির্মাণ, যত্রতত্র কীটনাশক ওষুধের ব্যবহার, পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ আহরণ ইত্যাদি নানাবিধ কারণে ব্রইজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক জলজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব কারণে বর্তমানে প্রাকৃতিক পরিবেশের রুই মাছ খুব একটা পাওয়া যায় না। হ্যাচারিতে কৃত্রিমভাবে রুই মাছ উৎপাদন করা হলেও তা প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন নয়। হ্যাচারিতে সীমিত ও নির্দিষ্ট মাছের মধ্যে আন্তঃপ্রজনন ঘটানোর ফলে রুই মাছের ভালো গুণাবলি হারিয়ে যাচ্ছে। জিনগত বৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে, রোগাক্রান্ত মাছের আধিক্য দেখা দিচ্ছে এবং স্বাদবিহীন মাছের প্রাচুর্যে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। হ্যাচারির মাছ কখনোই প্রাকৃতিক মাছের প্রতিনিধিত্ব করে না। এ অবস্থায় মাছের প্রাকৃতিক গুণাবলি, জিনগত বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশে রুই মাছকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। পরিবেশগত, প্রজাতিগত ও জিনগত বৈচিত্র্যের দিকে লক্ষ রেখে মাছের প্রজাতি বৈচিত্র্য রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

উপরের আলোচনার আলোকে সুস্পষ্টভাবে বলা যায়, চিত্রের Q প্রাণীটি অর্থাৎ রুই মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া অতীব জরুরী। যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রুই মাছ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে।

রিঅ্যাকশন

পছন্দ প্রকাশ করুন

শেয়ার করুন

WhatsApp / Facebook

কমেন্ট

মতামত লিখুন
📥 Word