প্রশ্ন ও উত্তর দেখুন

পূর্ণ প্রশ্ন

পূর্ণমান: 10
বিষয়: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র অধ্যায়: প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস শ্রেণি: ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষ বোর্ড: যশোর বোর্ড সাল: ২০২৩

প্রশ্ন ৩। জীববিজ্ঞান ল্যাবে দু'টি চার্ট টাঙ্গানো আছে। যার প্রথমটি প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাসের চার্ট এবং দ্বিতীয়টি Ganthostomata অধিশ্রেণির সাতটি শ্রেণির নামসহ উদাহরণের চার্ট।

ক. শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী কাকে বলে?

খ. সিলোম ও হিমোসিলের মধ্যে দুটি পার্থক্য লিখ।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম চার্টের শ্রেণিবিন্যাসটি ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় চার্টের ১- ৪ নং শ্রেণির প্রতিটির দুটি বৈশিষ্ট্য ও একটি উদাহরণ দাও। 

উত্তর

সমাধান

৩নং প্রশ্নের উত্তর

ক. যেসব প্রাণীরা তাদের দেহের তাপমাত্রা অভ্যন্তরীণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না ফলে দেহের তাপমাত্রা পরিবেশের তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয় তাদেরকে শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী বলে। যেমন- সাপ, ব্যাঙ ইত্যাদি

খ. সিলোম ও হিমোসিলের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিচে দেয়া হলো-

সিলোমহিমোসিল
১. প্রাণীর দেহপ্রাচীর ও পৌষ্টিকনালির মধ্যবর্তী সিলোমিক তরলপূর্ণ গহ্বর হচ্ছে সিলোম।১. দেহপ্রাচীর ও পৌষ্টিকনালির মধ্যবর্তী রক্তপূর্ণ গহ্বর হচ্ছে হিমোসিল।
২. পুষ্টি পদার্থ পরিবহন করে না।২. পুষ্টি পদার্থ পরিবহন করে।

গ. উদ্দীপকের প্রথম চার্টের শ্রেণিবিন্যাসটি হলো প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস। প্রতিসাম্যতার ভিত্তিতে প্রাণিজগৎকে নিম্নোক্ত পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়-

১.গোলীয় প্রতিসাম্য: যখন কোনো গোলাকার জীবদেহকে উহার কেন্দ্র বরাবর যে কোনো তলে সমান ও সদৃশ অংশে ভাগ করা যায় তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন: Volvox globator.

২.অরীয় প্রতিসাম্য: যখন কোনো প্রাণিদেহকে কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর যে কোনো তলে সমান অংশে বিভক্ত করা যায় তখন তাকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন: Cnidaria ও Ctenophora.

৩. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: যখন কোনো প্রাণিদেহকে উহার মৌখিক ও এর বিপরীত অক্ষ বরাবর দুটি তলে সমানভাবে বিভক্ত করা যায় তখন তাকে দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন: Ctenophora ও Anthozoa.

৪. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: যখন কোনো প্রাণিদেহকে কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর লম্বালম্বিভাবে কেবল একবার দুটি সমান অংশে ভাগ করা যায় তখন তাকে দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন: Arthropoda, Chordata.

৫. অপ্রতিসাম্য: যখন কোনো প্রাণিদেহকে উহার কেন্দ্রীয় অক্ষ বা অন্য কোনো তলে সমানভাবে বিভক্ত করা যায় না তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। যেমন: Pila globosa


ঘ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় চার্টে Gnathostomata অধিশ্রেণির সাতটি শ্রেণির নামসহ উদাহরণ আছে। Gnathostomata অধিশ্রেণির ১-৪ নং শ্রেণির প্রতিটির দুইটি বৈশিষ্ট্য ও একটি উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো-

শ্রেণি-১: Chondrichthyes:

বৈশিষ্ট্য:  ১. তরুণাস্থি নির্মিত অন্তঃকঙ্কালবিশিষ্ট প্রাণী।

              ২. আণুবীক্ষণিক প্ল্যাকয়েড আঁইশ দ্বারা দেহ আবৃত।

উদাহরণ: হাতুড়ি হাঙ্গর (Eusphyra blochii)

শ্রেণি-২: Actinopterygii:

বৈশিষ্ট্য:  ১. কঠিন অস্থি নির্মিত অন্তঃকঙ্কালবিশিষ্ট প্রাণী।

                ২. সাইক্লয়েড বা টিনয়েড আঁইশ দ্বারা দেহ আবৃত; কখনো নগ্নত্বকী।

উদাহরণ: Tennualosa ilisha (ইলিশ মাছ)

শ্রেণি-৩: Sarcopterygii:

বৈশিষ্ট্য: ১. কঠিন অস্থি নির্মিত অন্তঃকঙ্কালবিশিষ্ট প্রাণী।

            ২. এদের ত্বক ডার্মাল আঁইশবিশিষ্ট যা এপিডার্মিস দ্বারা আবৃত।

উদাহরণ: Neoceratodus forsteri (অস্ট্রেলিয়ান লাংফিশ)

শ্রেণি-৪: Amphibia:

বৈশিষ্ট্য:   ১. এ শ্রেণিভুক্ত প্রাণীরা লার্ভা দশায় ফুলকা ও পূর্ণাঙ্গ দশায় ফুসফুস দ্বারা শ্বসন সম্পন্ন করে।

                ২. দেহত্বক নগ্ন, সিক্ত ও গ্রন্থিময়, এক্টোথার্মিক।

উদাহরণ: Duttaphrynus melanostictus (কুনোব্যাঙ)

রিঅ্যাকশন

পছন্দ প্রকাশ করুন

শেয়ার করুন

WhatsApp / Facebook

কমেন্ট

মতামত লিখুন
📥 Word